নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ৭

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষায়িত আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১১৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক শিশু জ্বর, কাশি, শরীরে র‍্যাশসহ হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জ্বর ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের আব্দুল করিমের ছেলে মোহাম্মদ জিহাদ (৮)। আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তীব্র জ্বর ও কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনের ছয় বছর বয়সী ছেলে মাইয়ারকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের বিশেষায়িত আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ৬১ জন শিশু নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।

তিনি আরও জানান, জেলার প্রান্তিক এলাকাগুলোতে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ