বরখাস্তের পরও ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ নায়েব কামরুলের বিরুদ্ধে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় যোগদান করতে পারেনি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে নতুন করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে এক নাগরিকের কাছ থেকে সুদে ধার করা ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আবুল কাশেম। এর আগে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের সামনে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় এখন পর্যন্ত তিনি জয়মন্টপ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করতে পারেননি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন করে ওঠা ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নামজারির নামে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জয়মন্টপ ইউনিয়নের খানবানিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম তাঁর ৩৫ শতাংশ জমির নামজারি করাতে গিয়ে নায়েব কামরুল হাসানের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন। দাবি পূরণ করতে তাঁকে সুদে টাকা ধার করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আবুল কাশেমের অভিযোগ, জমির নামজারি করানোর আশায় তিনি ওই টাকা দেন। এতে আর্থিকভাবে চরম চাপে পড়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিভাগীয় কমিশনারের পরিদর্শনে ঘুষের অভিযোগ, সাময়িক বরখাস্ত
এর আগে গত ২৪ আগস্ট ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিয়া জয়মন্টপ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে মোছা. ফজিলন নেছা নামের এক নারী কর্মকর্তা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ৩১ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভূমি অফিসের সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আগের কর্মস্থলেও অনিয়মের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিংগাইর পৌর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীনও কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে জমির নামজারি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের দাবি, ১০ ভাই-বোনের জমি তাঁদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত না করে মাত্র দুজনের নামে নামজারি করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন। ওই সময় তাঁকে মারধরের শিকার হতে হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
তবে আগের ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে দোষী, যোগদান করতে পারেননি—প্রশাসনিক সূত্র
সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তে কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ কারণে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে তিনি জয়মন্টপ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করতে পারেননি।
সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুননাহার জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার ভিত্তিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চান ভুক্তভোগীরা
ভূমি অফিসে নাগরিকদের হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, জমির নামজারির মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে যেন ধারদেনা করে টাকা দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগীর অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ