নাফিসা খানম নিশুর কণ্ঠে নোয়াখালীর গান, বিশ্বমঞ্চে ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রত্যয়
নোয়াখালী প্রতিনিধি: জিসান রহমান
নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা, লোকজ সংস্কৃতি ও মাটির সুরকে গানের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন কণ্ঠশিল্পী নাফিসা খানম নিশু। নিজের কণ্ঠে নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিনি তুলে ধরছেন এ অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, আবেগ, ভালোবাসা ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
বাংলাদেশের লোকসংগীতের ভান্ডারে নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানের রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। এ অঞ্চলের ভাষার টান, কথার ধরন ও সুরের বৈচিত্র্য নোয়াখালীর মানুষের নিজস্ব পরিচয় বহন করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এসব গান স্থানীয় মানুষের আনন্দ-বেদনা, সামাজিক জীবন ও শেকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
কণ্ঠশিল্পী নাফিসা খানম নিশু নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান পরিবেশনের মাধ্যমে সেই পরিচয়কে সংগীতের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তার এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজ জেলার ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি আঞ্চলিক লোকসংগীতের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংস্কৃতিবিদদের মতে, আঞ্চলিক গান কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও জীবনবোধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই আঞ্চলিক ভাষায় রচিত গান সংরক্ষণ, চর্চা এবং নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নাফিসা খানম নিশু। তার মতো শিল্পীদের উদ্যোগে নোয়াখালীর লোকজ সুর আরও বিস্তৃত শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিজ জেলার ভাষা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে সংগীতচর্চার এই পথচলা অব্যাহত থাকলে নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান জাতীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিসরে এসব গানের প্রচার নোয়াখালীর ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
নাফিসা খানম নিশুর কণ্ঠে নোয়াখালীর মাটির সুর ছড়িয়ে পড়ুক দেশের প্রতিটি প্রান্তে, পৌঁছে যাক বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে—এমন প্রত্যাশাই সংগীতপ্রেমীদের। নোয়াখালীর আঞ্চলিক গান হয়ে উঠুক জেলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরবের এক অনন্য পরিচয়।



Post Comment