বেগমগঞ্জে আগুনে পুড়েছে বসতঘর, ঘরহারা ১২ পরিবার

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে এক তরুণ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ মে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অন্তত ১২টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের দাবি, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

আগুনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা। অনেকেই বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামে জোবায়ের হোসেন রাকিব নামে এক তরুণ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে একের পর এক বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, আগুনে বসতঘর, আসবাবপত্র, জামাকাপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নগদ অর্থসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বের করারও সুযোগ পায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত শামছুন নাহার তিন কন্যাসন্তান নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডে তার বসতঘর ও ঘরের প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ও রক্ষা করতে পারেননি তিনি।

শামছুন নাহার বলেন, ‘আগুনে আমাদের ঘরবাড়ি ও সবকিছু পুড়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে এখন কোথায় থাকব, কীভাবে সংসার চালাব—তা বুঝতে পারছি না। এর মধ্যে আবার হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনায় আমরা আরও আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দাবি, মোট ১৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও সাতটি ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল লুট করে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার পরও তাদের আতঙ্ক কাটেনি। বর্তমানে কয়েকজনের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে এবং চাঁদা না দিলে পুনরায় বাড়িঘরে আগুন দেওয়া ও এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে ঘরহারা পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বৃষ্টি ও রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরিবারের কাছে রান্না, পোশাক ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীরও সংকট দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, দ্রুত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে ঘরহারা পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর হারানো পরিবারগুলোর এখন একটাই প্রশ্ন কোথায় থাকবেন তারা, কীভাবে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে জীবনযাপন করবেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত নিরাপত্তা, পুনর্বাসন ও মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা হোক।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ