নোয়াখালীতে ৭ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিম্নমানের কাজের অংশ ভেঙে অপসারণের পাশাপাশি এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে বদলি এবং দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই সেতুটিতে বিভিন্ন অনিয়ম দেখা যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার জানানো হলেও রাতের আঁধারে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তারা। ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে জিআই তার ব্যবহার এবং নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজ করায় স্ল্যাবগুলো পথচারীদের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। একই ধরনের ত্রুটি সেতুর রেলিংয়ের কাজেও দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম দেখা গেছে। বিষয়গুলো নিয়ে এলজিইডিতে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে এবং ঠিকাদারের লোকজনকেও অনিয়মের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরপরও রডের পরিবর্তে তার ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এলজিইডি নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ নিম্নমানের এবং নকশা ও স্পেসিফিকেশনের বাইরে করা হয়েছে বলে দেখা যায়। একই সঙ্গে রেলিংয়ের রডের কাজও নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়।

তিনি বলেন, নিম্নমানের কাজের অংশগুলো দ্রুত ভেঙে অপসারণের জন্য ঠিকাদারের লোকজনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে এলজিইডির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ফুটপাতের স্ল্যাবগুলো ভেঙে অপসারণ করা হয়। স্ল্যাব ও রেলিংয়ের যেসব অংশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলোও অপসারণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণকাজের ত্রুটি সংশোধন করে সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এক প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, কাজটি হক ট্রেডার্সের নামে হলেও তারা সরাসরি নির্মাণকাজ করছেন না। তাদের লাইসেন্সে সেনবাগের শাহজাহান কাজটি করছেন এবং বর্তমানে শাহজাহানের চাচাতো ভাই মো. ফরহাদ কাজটি দেখভাল করছেন।

মো. ফরহাদ বলেন, সেতুর কাজ শুরু থেকেই ভালোভাবে করা হচ্ছিল। সম্প্রতি ফুটপাত ও রেলিংয়ের কাজে কিছু ত্রুটি ধরা পড়লে এলজিইডির প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অংশগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, ঠিকাদার অনিয়মিতভাবে কাজ করতেন এবং তাদের অগোচরে কিছু অনিয়ম হয়েছে। বিষয়টি জানার পর নিম্নমানের কাজের অংশগুলো ভেঙে অপসারণ করা হয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ