ভুটানকে হারিয়ে সাফ মিশন শুরু বাংলাদেশের
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে মিশন শুরু করল বাংলাদেশ। গতকাল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এ জয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল থমাস ডুলির শিষ্যরা। বারবার ভুটানের গোলমুখে আক্রমণে গিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত কাক্সিক্ষত গোলের দেখা মেলে ইব্রাহিমের পা থেকে। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে তার গোলটাই ম্যাচে জয়ের নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।
গতকাল বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচের আগে সাফের দেওয়া তালিকায় তপু বর্মণ ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। জামাল ভূঁইয়াও ছিলেন দলে। এর অর্থ, আনুষ্ঠানিকভাবে তপুই হতে যাচ্ছেন অধিনায়ক। কিন্তু দল মাঠে নামার সময় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। জামালের হাতে অধিনায়কের ‘আর্মব্যান্ড’। তপু দলেই নেই! পরে বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হলো, ইনজুরিতে পড়েছেন তপু। এ কারণে শেষ মুহূর্তে তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয়েছে কাজেম শাহকে। তপু না থাকায় ২২ জনের দলই ছিল কোচ থমাস ডুলির ভরসা। খেলা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ বদলে যাওয়া একাদশের কারণে পরিকল্পনায় কিছু ভিন্নতা দেখা গেল। অগোছালো আক্রমণ। ডিফেন্সে এলোমেলো পদচারণা। আর আক্রমণে ছন্নছাড়া। পরিকল্পনা ছাড়াই দিকহারা শট। এর ফলে প্রথমার্ধে বারবার সুযোগ তৈরি করেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। গোলের দেখা মেলেনি। বিশ্বনাথ তিনবার সুযোগ হারিয়েছেন।
এর মধ্যে ৩৯ মিনিটের সুযোগটা ছিল দারুণ।
ডিফেন্স চেরা পাসে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। গোলরক্ষক ছিলেন একা। কিন্তু বিশ্বনাথের শট গোল পোস্টের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। লক্ষ্যভ্রষ্ট এমন শট নিয়েছেন জামাল ভূঁইয়াও। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে না পারার যন্ত্রণা নিশ্চয়ই পুড়িয়েছে বাংলাদেশের হেড কোচ থমাস ডুলিকে। সেই সঙ্গে পুড়িয়েছে গ্যালারির অন্তত ১৫ হাজার দর্শককেও। যারা টিভি সেট কিংবা মোবাইল অ্যাপে খেলা দেখেছেন সেসব কোটি কোটি দর্শকও হতাশ হয়েছেন। আফসোস করতে করতেই কেটেছে খেলার অর্ধেক সময়।
দ্বিতীয়ার্ধে ফাহিমকে উঠিয়ে ফাহামিদুলকে মাঠে নামান কোচ থমাস ডুলি। তবে মাঠে বাংলাদেশের খেলায় তেমন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে। অ্যাটাকিং থার্ডে বল নিয়ে গেলেও গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং মাঝে মাঝে কাউন্টার আক্রমণে বাংলাদেশের ডিফেন্স ভেঙে দিচ্ছিল ভুটান। ৬৫ মিনিটে জামালের পরিবর্তে সোহেল এবং বিশ্বনাথের পরিবর্তে ইব্রাহিম মাঠে নামেন। খেলায় কিছুটা গতি ফেরে। তবে তখনো গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিলেন না কেউই। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য জয়ের দরোজা খুলে দেন ইব্রাহিম। ৬৯ মিনিটে ডি বক্সের ভিতরে সামিতের হেডে বল পেয়ে গোল করেন ইব্রাহিম। মাঠে নামার মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই গোল করে বাংলাদেশের দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান তিনি।



Post Comment