সুবর্ণচরে সড়ক খানাখন্দ ও ভেঙ্গে চলাচল ব্যাহত, জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে
মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার আক্তার মিয়ার হাট-থানারহাট-এসহাক মুন্সীর হাট- জেলা সদরের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় আঞ্চলিক মহাসড়কটি খানাখন্দ ও ভেঙে পড়া অংশ সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও জনসাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সুবর্ণচরের ২১ কিলোমিটার সবচেয়ে বেশি ভাঙাচোর। এটি গাজী খেওয়া থেকে থানারহাট-হয়ে এসহাক মুন্সীর হাট-আক্তার মিয়ারহাট সড়কটির বেশির ভাগ অংশেই কার্পেটিং উঠে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চরক্লার্কের এসহাকমুন্সীর হাটের সাথে থানার হাট অংশে সড়ক ভেঙে পড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই স্থানটি দিয়ে ছোট-বড় যানবাহনগুলো মালামাল পরিবহনের সময় প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। সম্প্রতি অনেক গাড়ি রাস্তায় উল্টে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশ-পঁচিশ বছর আগে মেঘনার মোহনা থেকে জেগে উঠা এই চরে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সড়কগুলো চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প (সিডিএসপি)অধীনে দেখভাল করতো। এরপর ২০১২ সালের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রথম সড়কটি পাকা করা হয়। এরপর একাধিকবার কার্পেটিং বসিয়ে সংস্কারও করা হয়। ২০২০ সালে রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সংস্কার মানসম্মত না হওয়ায় এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সড়কটি দিয়ে এখন ছোটবড় যানবাহনে এবং হেঁটে চলাচলও দুরূহ হয়ে পড়েছে।

থানারহাট এলাকার ভ্যানচালক আবুল বাশার বলেন, সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, রাস্তার পাশের মাটি ক্ষয়ে খালে পড়েছে। কিন্তু কেউ তা মেরামতে এগিয়ে আসেনি। তিনি নিজেই ভাঙা রাস্তা দিয়ে যেতে না পেরে ১১ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সড়ক দিয়ে চলাচল করেন।
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন নোয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী বাবলু বলেন, মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্কে উৎপাদিত সবজি পুরো নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। উড়িরচরের সাথে সুবর্ণচরের পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে আক্তার মিয়ার হাট, থানার হাট,বোয়ালখালী, চরবাটা খাসেরহাট,চরজুবিলী ইউনিয়নে যোগাযোগের অন্যতম এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি দিয়ে চরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উপজেলা সদরে আনা হয়। কিন্তু সড়কের দুরবস্থার কারণে কৃষককে পণ্য বাজারে আনতে গিয়ে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। বড় গাড়িগুলো মোকামে প্রবেশ করেেত না পারায় ছোট ছোট ভ্যানগুলোর মাধ্যমে বেশি ভাড়া দিয়ে পণ্য আনা নেয়া করতে হয়। তাই কৃষকের স্বার্থেও সড়কটির সংস্কার জরুরি।
ডেসটিনি কলেজের ইংরেজি শিক্ষক মো.জিল্লুর রহমান খাঁন বলেন, শতশত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। বৃষ্টি হলে কাদা পানি ও খানাখন্দ দিয়ে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আসতে চায় না। এছাড়া কৃষিপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে খানাখন্দ ও বেহাল সড়কে প্রায় দূঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। সড়কটির বেহাল হওয়ার কারণে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।
ব্যাটারী ইজিবাইক-চালক জসিম উদ্দিন বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কটির ভাঙ্গাচোরা খানাখন্দ দিয়ে মালামাল পরিবহন ও যাত্রী পারাপার করতে গিয়ে ঘন ঘন বাইকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে বাইক চালিয়ে যে আয় রোজগার হয়, তার বেশির ভাগই চলে যায় বাইক ঠিক করতে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুবর্ণচর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজালাল বলেন, এটি ২০২০ সালে সড়ক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় এমপি সহযোগিতায় সুবর্ণচরের অংশের সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। প্রথম শিডিউলে কেউ অংশ নেয়নি। পুনরায় দরপত্র দেয়া হবে। আশা করি শীঘ্রই রাস্তাটি সংস্কার হবে।



Post Comment