গুয়ানতানামো বে কারাগারে পাঠানো হবে ‘অনুপ্রবেশকারীদের, জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গুয়ানতানামো বে’তে একটি অভিবাসী বন্দী কেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। যেখানে ৩০ হাজারের মতো লোক থাকতে পারে। কারাগারটি হবে কিউবায় মার্কিন নৌবাহিনীর আদলে, তবে এটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন সামরিক কারাগারের মতো হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আমেরিকানদের জন্য হুমকি স্বরূপ অবৈধ অভিবাসীদের সেখানে রাখা হবে।
দেশটিতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বাড়ছে। একইসঙ্গে চাকরি ও অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। এই ইস্যুতে চাপে পড়তে হয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকারকেও।
ট্রাম্পের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল আমেরিকাকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ মুক্ত করা। এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আমেরিকায় বহু অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার হচ্ছে। এর জন্য গুয়ানতানামো বে কারাগারে প্রায় ৩০ হাজার বন্দির থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
গুয়ানতানামো বে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যা কিছু মানবাধিকার গোষ্ঠীর দ্বারা সমালোচিত হয়েছে। ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যান বলেছিলেন যে, সেখানে বিদ্যমান সুবিধা সম্প্রসারিত হবে এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্বারা পরিচালিত হবে।
হোম্যান বলেন, মার্কিন কোস্ট গার্ড দ্বারা সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের সরাসরি গুয়ানতানামো বে’তে পাঠানো হবে। এর পেছনে কত খরচ হবে তা স্পষ্ট নয়। কিউবার সরকার ‘দখলকৃত’ ভূমিতে নির্যাতন এবং অবৈধভাবে অভিবাসীদের আটক রাখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার নিন্দা করেছে। ট্রাম্পের ঘোষণাটি এসেছে যখন তিনি তথাকথিত লেকেন রিলে আইনে স্বাক্ষর করেন। এই আইন অনুযায়ী, চুরি বা হিংসাত্মক অপরাধের জন্য গ্রেপ্তার হওয়া অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিচার মুলতবি থাকা অবস্থায় কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
গত বছর ভেনিজুয়েলার একজন অভিবাসীর হাতে খুন হওয়া জর্জিয়ার নার্সিং ছাত্রের নামে নামকরণ করা এই বিলটি গত সপ্তাহে কংগ্রেস অনুমোদন করেছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি প্রাথমিক আইনি জয়।
হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে এক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, গুয়ানতানামোর নতুন নির্বাহী আদেশ প্রতিরক্ষা ও স্বদেশ নিরাপত্তা বিভাগকে ৩০ হাজার শয্যাবিশিষ্ট কক্ষ তৈরির নির্দেশ দেবে । কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয়ই গুয়ানতানামোতে বিশেষ সুবিধা ব্যবহার করে আসছে, যা গুয়ানতানামো অভিবাসী অপারেশন সেন্টার (জিএমওসি) নামে পরিচিত।
২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে ইন্টারন্যাশনার রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট (আইআরএপি) বা আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহায়তা প্রকল্প দাবি করেছে, সরকার অভিবাসীদের সমুদ্রে আটকে রাখে। এরপর সেখান থেকে গোপনে গুয়ানতানামো বে’তে ‘অমানবিক’ পরিবেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রেখেছে।
সূত্র: বিবিসি



Post Comment