সুবর্ণচরের সুপেয় পানির সঙ্কট, সমাধানে নেমেছে সরকার

আবদুল জববার, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি


এক সময়ের জলসমৃদ্ধ নোয়াখালীর সুবর্ণচর এখন পানির জন্য হাহাকার করছে। খাল-বিল, ডোবা-নালায় ভরপুর জনপদটি কৃষির জন্য বিখ্যাত হলেও এখন প্রতিটি ঘরে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির চরম সংকট।

রোববার সকালে সুবর্ণচর উপজেলা মিলনায়তনে ‘পানির সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এমন করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন স্থানীয়রা। চরবাটা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠেই পরিবারের পানি জোগাড় করতে যুদ্ধ করতে হয়। কোথাও একটু খাবার পানি পেলেই মনে হয়, যেন সোনার খনি পেয়েছি।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান, বিএডিসি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় কৃষক, পরিবেশবিদ, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জানান, বোরো চাষে অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত কয়েক বছরে পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা জানান, সংকট নিরসনে বিকল্প পানির উৎস খুঁজে বের করতে না পারলে কৃষি ও জনজীবন দুটিই হুমকির মুখে পড়বে।

বক্তারা সুবর্ণচরকে ‘পানি সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা, বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, নদীকে সেচ ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ভূ-উপরিস্থ পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পরিবেশকর্মী ও চন্দ্রকলির নির্বাহী পরিচালক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, “চার-পাঁচ বছর আগেও এমন সংকট ছিল না। কিন্তু এখন সেচ পাম্পের সংখ্যা ২৪৫ থেকে বেড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ব্যাপক চাপ পড়েছে।”

উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন নোয়াখালীর সভাপতি আবদুল বারি বাবলু বলেন, “বোরো চাষ ও ইটভাটায় পানি ব্যবহার বাড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানির ঘাটতি দেখা দিলে পানিতে লবণাক্ততা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মেঘনার শাখা নদী হতে পারে বিকল্প উৎস।”

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মেঘনার খাল পুনঃখনন, স্লুইচ গেট নির্মাণ, পুকুর ও দীঘি খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি ধান বাদ দিয়ে ডাল ও অন্যান্য কম পানি প্রয়োজনীয় শস্য চাষেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

সভা শেষে কৃষি সচিব ও পানি সম্পদ সচিব জানান, তারা সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে কাজ শুরু হবে। খাল পুনঃখনন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং নদীর পানি ব্যবহার উপযোগী করে সেচ ব্যবস্থায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

গত দুদিন ধরে সচিবরা স্থানীয় সংকটপূর্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দখল হওয়া নদী ও খাল উদ্ধার করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ