‘দৈত্যাকার চাঁইয়ে’ ধ্বংস হচ্ছে নদীর পাঙাস মাছ

বাঁশ দিয়ে তৈরি একেকটি চাঁইয়ের উচ্চতা সাত থেকে আট ফুট, প্রশস্ত ১৫ ফুট। নদীর গভীরে এ মাছ ধরার ফাঁদে একবারে ধরা পড়ে ২০০ থেকে ৩০০ কেজি পাঙাস মাছের পোনা। এতে চরম হুমকির মুখে পড়ছে নদীর পাঙাসের বংশবৃদ্ধি।

দৈত্যাকারের চাইয়ে এভাবে পোনা ধরা চলতে থাকলে এক সময় নদীতে আর সুস্বাদু পাঙাস মাছ পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করছেন মৎস্য কর্মকর্তা, জেলেসহ সংশ্লিষ্টরা।

বরিশালের হিজলা উপজেলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. বাশার বলেন, “একেকটি চাঁইয়ের মধ্যে দুই তিনজন মানুষ ঢুকতে পারে। সেগুলো নদীতে ফেলার পর আড়াই থেকে তিন মণ পাঙাস মাছ পাওয়া যায়।

“তাই অতিরিক্ত মুনাফার আশায় এসব চাঁই তৈরি করে বরিশালের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ফেলছেন অসাধু ব্যক্তিরা।”

মৎস্যজীবী সমিতির এ নেতা আরও বলেন, “এভাবে মাছ ধরতে নিষেধ করলেও তারা শোনে না। এর মধ্যে প্রশাসন কয়েকটি চাঁই আটক করে পুড়িয়ে ফেলছে। তবুও তাদের থামানো যাচ্ছে না, ধ্বংসের মুখে পড়েছে নদীর পাঙাসের ভবিষ্যৎ।”

তবে এখন হিজলায় এই চাঁই নেই। তবে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার অংশে কিছু রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. পলাশ বলেন, “মেঘনা নদীর হিজলা সংলগ্ন এলাকায় কিছু জেলেরা এ চাঁই দিয়ে মাছ ধরে। তারা পাঙাস-টেংরাসহ ভালো মাছ পায় বলে শুনেছি। এসব মাছ ঢাকা ও বরিশালে নিয়ে বিক্রি করা হয়।”

বরিশালের মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, মার্চ থেকে মে এই দুই মাস জাটকা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকে। এ সময়ে পাঙাস মাছও নদীতে নিরাপদ প্রজনন করে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ