নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:


নোয়াখালীর সুবর্ণচরের হালিম বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজকে মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলা দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। সবুজ ও সিরাজ নামের দুই পোল্টি্র ব্যবসায়ীর মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে একটি কুচক্রি মহল। কথিত আছে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন যাবত ঐ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।এঘটনায় প্রতিপক্ষ সিরাজকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের কথা বলে নিজের অপকর্ম ঢাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে হালিম বাজারের পোল্টি্র ব্যবসায়ী সবুজ।
খোদ প্রশাসনের হাতের নাগালে বসে অন্যকে চাঁদাবাজ ও প্যান্টের পকেটে গুলি রাখার কথা বলে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ১৩ এপ্রিল রাতে উপজেলার হালিম বাজারে দুই পোল্টি্র ব্যবসায়ীর মধ্যে ব্যবসায়ীক ভুল বুঝাবুঝির কারণে বাক্বিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় বাজারে স্থানীয় অন্য ব্যবসায়ীরা ও নৈশ প্রহরী ঘটনাটি বাজারের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে অবহিত করলে তাহারা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করে দেন। দুই পক্ষের মধ্যে বিবদমান সমস্যা মিটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে ব্যবসায়ী সবুজ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে মুল ঘটনার বিপরীতে চাঁদাবাজি ও মারামারি ঘটনা উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা অভিযোগ করতে থাকেন।এতে করে হালিম বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজের অভিভাবক ফয়েজ মিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক বেলায়েত হোসেনকে অবহিত করলে তিনি ওয়ার্ড মেম্বার ছিদ্দিক উল্যাহ, সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন ছুট্টি,উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আমির খসরু মাহমুদকে নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নিলে ব্যবসায়ী সবুজ কোন আলোচনা করতে রাজি হননি।

ব্যবসায়ী সিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সুনামের সহিত ব্যবসা করে আসছি। আমাকে ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে নানান দিক থেকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও একটি অনলাইন পোর্টালে আমার সম্পর্কে উল্টো লিখে আমার উপর ছাপ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।একটি অনলাইন পোর্টালে আমার বিরুদ্ধে অস্ত্রের অভিযোগ তুলে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা এবং বানোয়াট। পোর্টালে বলা হয়েছে কতেক জমি দখলের কথা এটি প্রতিবেদকের মনগড়া মিথ্যা বনোয়াট রিপোর্ট।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, জেলার কালিতারা ও মাইজদী থেকে সন্ত্রাসী এনে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন।গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আমাকে ব্যবসায়ীক ও সামাজিক ভাবে হেয় করছে।

সিরাজ বলেন, ব্যবসায়ীক ভাবে আমাদের সাথে কখনো কোন কথা হয়নি। সবুজ এই বাজোরে ব্যবসা করে বছর তিনেক হয়েছে। প্রথম থেকে বিভিন্ন বিশৃংখলা করে আসছে ।স্থানীয় মেম্বার ছিদ্দিক উল্যাহ তার অনেক অপকর্মের বিচার করেছে।সবুজ এতোটাই বেপরোয়া যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কথা সে শুনে না।

হালিম বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘ ১২ বছর যাবত বাজার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।আমার ছেলে হওয়ায় আমি তৎক্ষণাত এলাকার মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মিমাংসা করি। আমি সিরাজকে শাসন করি, তার গায়ে হাত তুলি । এর পরেও বিষয়টি নিয়ে নানান হুমকি দিচ্ছে।

ব্যবসায়ী সবুজ জানান, তিনি কোন বিচার পাননি।তিনি বিষয়টি কোর্টের মাধ্যমে সমাধান করবেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ৬নং চরআমান উল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন জানান,হালিম বাজারের দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আমি বিয়ষটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসার জন্য বললেও অপর পক্ষের ব্যবসায়ী সবুজ বসতে রাজি হননি। হাতাহাতির ঘটনাকে অন্য খাতে নিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করছে।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ