নোয়াখালীর সুবর্ণচরে কে এই মুন্সী মেম্বার
সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধি
কে এই মুন্সী মেম্বার ?
চা দোকানদার থেকে ভূমিহীন নেতা তারপর ইউপি সদস্য এবং বর্তমানে আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন সভাপতি।
১.মুন্সি মেম্বারের বর্তমান পেশা ও আগের পেশা কি?
মুন্সী মেম্বার বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয় পরিষদের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের অনুসারী। এর আগে ১৯৮০-৮১ সালের দিকে স্থানীয় বৃহত্তর ১৬ নং চরজব্বার ইউনিয়ন থাকাকালীন আটকপালিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন ।
তিনি বাবার সাথে চা দোকানদার ছিলেন। ১৯৮০ সালের দিকে চরওয়াপদায় নতুনচর জেগে উঠলে তিনি ভূমিহীন সঙ্গে কাজ করে তাদের নেতা বনে ৭৫ একর জমির মালিক হয়ে যায়। মুন্সী নেতা হওয়ার সুবাদে এই জায়গার মালিক হন। ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে ভূমিদখল ও চুরির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার হয়।
১৯৯০ সালে চরজব্বার ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে চরওয়াপদা ইউনিয়ন হলে পুরোধমে তিনি ঐ এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। চরওয়াপদা ইউনিয়নে প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৯৫ সালে। প্রথম মেম্বার হয় তিন মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত।
চরওয়াপদা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুন্সী মেম্বারের সমবয়সী ব্যক্তি বলেন, চরের ভূমি হীন নেতা হয়ে ২৫-৩০ একর জায়গার মালিক হয় বাকিগুলো ক্রয় ও দখল করে নেন। নারী সংক্রান্ত মামলা ছিল কিনা ঐ সময় তিনি জানেননা। তবে একাধিক চুরির অভিযোগ আসছে। চুরির ঘটনা ঘটাতেন। দখলবাজী ও চুরি ঘটনা সংগঠিত করাতেন বলে তিনি জানান।
২. তার লেখাপড়া কতদূর
মুন্সী মেম্বার এর পড়ালেখা নেই। বয়স্ক স্কুলে গিয়ে ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে নিজের নাম স্বাক্ষর শিখেছেন। তিনি অক্ষর দেখতে দেখতে কাগজ পড়তে পারেন।
৩. পারিবারিক তথ্য, বিয়ে কয়টা করেন, বৌ কবে মারা গেছে, ছেলেমেয়ে কতজন, তারা কি করে
মুন্সী মেম্বার পারিবারিকভাবে চরওয়াপদাসহ সুবর্ণচর উপজেলায় প্রভাবশালী। জায়গাজমিসহ বিভিন্ন বাজারে ভিটেসহ স্থাপনাার মালিক। তিনি তিন বিয়ে করেন। এদের মধ্যে বড় বউয়ের সাথে তিনি সবসময় থাকতেন এখনও ঐ সংসারে আছেন। এদের মধ্যে মেঝো বউ চলে যান ১৯৮৭ সালের দিকে। ২০০০ সালে তিনি তৃতীয় বিয়ে করেন। ছোট বউ মাস দুয়েক আগে অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
তিন পরিবার মিলে ছেলে মেয়ে ১০ জন। ৪ ছেলে ৬ মেয়ে।বড় ছেলে এলাকায় ব্যবসা মেঝো ছেলে বাড়িতে জায়গাজমি দেখাশুনা করেন। সেজো ছেলে ঢাকা বিশ^াবিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন তবে কোন বিভাগে পড়েন কেউ জানাতে পারেননি। ছোট ছেলে কোরআন হাফেজ হয়ে বাড়িতে থাকেন। ছোট মেয়ে ছাড়া বাকিগুলোকে বিয়ে দিয়ে দেন।
৪. চারিত্রিক দিক, নারী ঘটিত আগে কোন ঘটনা আছে কি?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি চারিত্রিক দিক দিয়ে মুন্সী মেম্বারের ব্যাপারে খারাপ বলছে। তিনি মুখে লাগামহীন কথা বার্তা বলতেন। নারীদের কুটুক্তি বেশি করতেন প্রভাবেশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতেন না। শিকদার নামে এক ব্যক্তি বরেন, আবুল খায়ের মুন্সী মেম্বারের কথা বললে তিনি চমকে উঠেন। ১০-১২ বছর বয়সী মেয়েরা তাঁর হাত থেকে রেহায় পাননি। তিনি একাধিক কুকর্ম করেছে। কেউ প্রতিবাদ করতেন না।
৫. ওই মহিলার সাথে কিভাবে পরিচয়
নির্যাতনের শিকার ঐ নারীর বাড়ি আর মুন্সী মেম্বারের বাড়ি দুরত্ব ২শ গজ। ২০১০ সালের দিকে হাতিয়া উপজেলা থেকে সুবর্ণচরের চরওয়াপদার চরকাজী মোখলেছ গ্রামের এসে ২০ শতক জায়গা কিনে বাড়ি করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় মুন্সি মেম্বার ওই গৃহবধূকে নাতনি বলে সম্বোধন করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই নারীকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। নিজের স্ত্রী নেই, তাই তাঁর প্রতি খেয়াল রাখতে গৃহবধূকে একাধিকবার কুপ্রস্তাবও দিয়েছেন। কিন্তু ওই নারী তাতে সাড়া মেলেনি।
৬. ওই মহিলার স্বামী, সন্তান, কবে নতুন বাড়িতে আসেন, তার স্বামী কি করে :
নির্যাতনের শিকার ঐ নারীর স্বামী পেশায় একজন দিনমজুর। এলাকা ও এলাকার বাহিরে গিয়ে কাজ করেন, কখনো ২-৩ দিন বাড়িতে আসেননা। তাদেও তিন সন্তান রয়েছে। বড় ও মেজো মেয়ে আর ছোট ছেলে। ২০১০ সালের দিকে নতুন বাড়িতে আসেন।
সমাজ ব্যবস্থায় মুন্সী মেম্বার:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আবুল খায়ের মুন্সী মেম্বার নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্রী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। চা দোকানদার থেকে ভূমিহীন নেতা তারপর ইউপি সদস্য এবং বর্তমানে আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন সভাপতি। তবে ঘটনার পর দলীয় সভাপতির পদসহ সকল কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ। এলাকার সালিশ দরবারে ছিলেন তিনি পারদর্শী। দলীয় অনেক কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন।
যেভাবে ধরা পড়লেন মুন্সী মেম্বার: ধর্ষণের ঘটনার জানা জানি হওয়ার পর ভোরে সিএনজি চালিত অটো রিকসা করে জেলা সদরে দলীয় উচ্চ নেতাদের সাথে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের বিশেষ দলের হাতে ধরা পড়েন।
কেন এতো ধর্ষণ হয় সুবর্ণচরে?
একসময়ের বালুময় সুবর্ণচর এখন মৎস্য ও গবাদিপশুর খামার এবং নানা রবিশস্যের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার। আয়তন ৩৮২ বর্গকিলোমিটার। নোয়াখালী সদর থেকে পাকা সড়ক ধরে যেতে সুবর্ণচরের মাঠে মাঠে ধান, সয়াবিন, তরমুজ, মটরশুঁটিসহ নানা শাকসবজির সবুজে চোখ জুড়িয়ে যায়। পাল বেঁধে চলছে গরু-মহিষ। কিন্তু এই সৌন্দর্য চাপা পড়ে যাচ্ছে ধর্ষণের মতো ভয়াবহতার নিচে।
২০০৫ সালে উপজেলা গঠনের পর এই এলাকায় চট্টগ্রামের স্বন্দ্বীপ থেকে চর উড়িয়া,লক্ষীপুরের রামগতি, ভোলার মনপুরা,চরফ্যাশন,জেলার হাতিয়া, কবিরহাট কোম্পানীগঞ্জ থেকে মানুষ এসে জেগে উঠা চরে বসতি স্থাপন করে। বছরে গড়ে ১০ হাজারের অধিক পরিবার এই উপজেলায় আসে। ফলে এদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠতে সময় ক্ষেপন হয়। অশিক্ষিতি লোকের সংখ্যা বেশি। দার দেনার জন্য এলাকার প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হতে হয়।
চরওয়াপদা ইউনিয়নের চরকাজী মোখলেছ গ্রামের দোপাদার মো.শাহজাহান এর এক কথায় জবাব, বিচার হয় না, তাই ঘটনা বাড়ছে। থানারহাট সড়কে এক দোকানে বসে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি এক সময় মুন্সী মেম্বারের সহচর ছিলেন। তাঁর কথার সমর্থন দিয়েছে এলাকার উপস্থিত অনেকে।


