বৃহত্তর নোয়াখালীতে কোটি মানুষের দাবি : নোয়াখালী বিভাগ চাই
নোয়াখালী প্রতিনিধি : জিসান রহমান
প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো জনপথ এবং ২০০ বছরের প্রাচীনতম জেলা নোয়াখালী—ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল ভাণ্ডার। এক সময় এ অঞ্চল শিক্ষা, সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনীতিতে ছিল দেশের অগ্রদূত। অথচ দীর্ঘ ইতিহাস-ঐতিহ্য সত্ত্বেও আজও নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণার দাবিটি পূরণ হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের প্রায় ১ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিই এখন নোয়াখালী বিভাগ।
বর্তমানে বৃহত্তর নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষ প্রশাসনিক সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বারবার বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সঙ্গে তুলনা করলে এখানকার মানুষের ভোগান্তি চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিকিৎসা, শিক্ষা, অবকাঠামো, যোগাযোগ ও শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়েছে এই জনপদ। বিশেষ করে বিভিন্ন দপ্তরের কাজে সাধারণ মানুষকে ঢাকাসহ চট্টগ্রামে যেতে হয়, যা সময়, অর্থ ও ভোগান্তি বৃদ্ধি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নতুন বিভাগ গঠিত হলে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না, বরং এ অঞ্চলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কৃষি ও মৎস্য খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। নোয়াখালী অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব—সব মিলিয়ে বিভাগ ঘোষণার যৌক্তিকতা অত্যন্ত দৃঢ়।
এ বিষয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে ইতোমধ্যেই আওয়াজ তোলা হচ্ছে। **সুবর্ণ নাট্যদল পরিবার** তাদের এক বিবৃতিতে বলেছে,
“নোয়াখালী বিভাগ আর বিলম্ব নয়, এটি এখন কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা করা হোক।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী একত্রিত হয়ে নতুন একটি বিভাগ গঠিত হলে শুধু এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নই নয়, দেশের সার্বিক অর্থনীতিও লাভবান হবে।
জনগণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্থানীয় বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা আর সময়ের অপেক্ষা মাত্র। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই এ দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি।



Post Comment