মরণ দুয়ার থেকে ফিরে

মাহমুদা আক্তার::


আজকে আমি সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়েছি। নিহত হই নি এটা তো সৌভাগ্যের বিষয়। আহত নিহত হওয়াটা এখানে স্বাভাবিক। বেঁচে থাকাটা ই সৌভাগ্য। তবে আমার সাথে বসা অপর ২ যাত্রি শুধু আহত তে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত যা মনে আছে তা হলো একজনের মাথা থেকে রক্তের স্রোত যাচ্ছিল আরেক জনের শরির রক্তাক্ত। বাসায় এসে আমার নিজের রক্তাক্ত জামাকাপড় ভিজিয়ে দিয়েছিলাম যাতে দেখতে না হয় কিন্তু এখন দেখছি আমার ব্যাগে ও অনেক রক্ত লেগে আছে।

দূর্ঘটনা ঘটার পর দেখলাম ভদ্র লোকেরা নিজেদের কাজে চলে যাচ্ছিল। কিছু হৃদয়বান লোক এগিয়ে আসলো। অটোরিকশাটা তুলে আমাদের বের করলো। আমি ই একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা বের হয়ে দাঁড়াতে পেরেছিলাম। আঙুল থেকে রক্ত পড়ে সব ভিজে যাচ্ছিল। হাত চেপে ধরলাম। আর কিছু মনে নেই। নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালের ওটি তে। অন্য ২ জন কেমন আছে জানতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সেই উপায় নেই।

আমি যাচ্ছিলাম বই আনতে। রকমারি তে বই অর্ডার করেছিলাম। একটু সুস্থ লাগার পর ডেলিভারিম্যান কে ফোন করে বললাম আমি এক্সিডেন্ট করেছি অমুক হসপিটালে আছি। আপনি এখানে দিয়ে যান। ছেলে টা সাথে সাথে চলে আসে। সে খুব অপরাধবোধে ভুগতে থাকে। যে তার তো বই দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে দিয়ে গেলে আমি হয়তো এক্সিডেন্ট করতাম না। আমার আম্মু আর বোন যেতে একটু দেরি হয়। তারা গিয়ে দেখে ছেলেটা তখন ও কাঁদছে।

যিনি আমাকে হাসপাতালে নিয়েছিলেন এবং যিনি বই দিয়েছিলেন ২ জন ই আমাদের বাসা পর্যন্ত আসলেন। বাসায় আসার পর ও কাঁদছিল এবং আমার থেকে বই এর মূল্য নিলেন না শেষ পর্যন্ত।
যারা পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন তারা সমাজের উঁচু স্থানে বসে আছেন। যাদের দায়িত্বহীনতায়, যাদের দূর্নিতির কারনে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটে তারা আছেন আরো উঁচু শ্রেণীতে। আর যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে তারা আজ নিম্ন শ্রেণির মানুষ।
লেখক::
মাহমুদা আক্তার
সহকারী শিক্ষিকা
প্রাথমিক শিক্ষা শাখা, নোয়াখালী

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ