সুবর্ণচরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু,পরিবারের দাবি হত্যা
সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি শ^শুর বাড়ির লোকজন রাতে ডেকে নিয়ে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।
নিহত যুবকের নাম মো. ছালা উদ্দিন(৩১)। তিনি উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কচ্ছপিয়া গ্রামের আতর আলীর ছেলে।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চর বাগ্গা এলাকায় থেকে পুলিশ এ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরে বড় ভাই আবুল বাসার, তার ছোট ভাই একজন দোকানী। গরুর ঘাস কেনা নিয়ে গত ১০ দিন যাবত ছোট ভাইয়ের সাথে তাঁর স্ত্রীর মনোমালিন্য চলছে। এনিয়ে ছোট তাঁর স্ত্রীকে পিঁড়ি দিয়ে আঘাত করলে সে রাগ করে বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। গতকাল রাতে তাঁর স্ত্রী ভাইয়ের ফোন পেয়ে রাত নয়টার দিকে দোকান বন্ধ করে শ^শুর বাড়িতে যায়। দুই সন্তানের দিকে তাকিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখার অনুরোধ জানিয়ে তাকে (ছালা উদ্দিন) শ্বশুর বাড়িতে যেতে বলে। সেখানে শ^শুর বাড়ির লোকজন রাতে তাঁর ভাইকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। এরপর আজ সকালে তার ভাইয়ের স্ত্রীর বড় বোন তাকে ফোন করে বলেন, আপনার ভাই ফাঁস দিছে, তার লাশ নিয়ে যান। সকালে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থরে গিয়ে দেখেন ঘরের আড়ার সাথে তাঁর ভাইয়ের দেহ ঝুলিয়ে আছে। পরে তিনি আত্মীয় স্বজনের কাছে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা জানান।

নিহতের বড় ভাই আবুল বাসার অভিযোগ করে বলেন, চার-পাঁচদিন আগে পারিবারিক বিষয়ে মনোমালিন্যের এক পর্যায়ে তার ছোট ভাই স্ত্রী আজিমা খাতুনকে (২৬) চড়-থাপ্পড় দেন। যার জের ধরে তিনি (স্ত্রী) বাপের বাড়িতে চলে যান। তার বাবার বাড়ির লোকজন এলাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। যার দরুন ঘটনার পর তারা তার ভাইকে নানা হুমকি-ধমকি দেন।
নিহতের স্ত্রী আজিমা খাতুন বলেন, পাশের বাড়ি থেকে গরুর ঘাস কিনতে বলায় তাঁর স্বামী ছালা উদ্দিন তাকে পিটুনী দেয় এতে তিনি রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। গত ১০ দিন যাবত তিনি বাবার বাড়িতে রয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর (স্ত্রীর) বড়ভাই স্ট্রোক করায় রাতে তাঁদের পাশের গ্রামের বড় ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান।
গতকাল রাত যথারীতি বড় ভাইয়ের বাড়িতে যান। রাতের কোন এক সময় তাঁর স্বামী ছালা উদ্দিন তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তা তিনি জানেন না। সকালে বড় ভাইয়ের বাড়ি থেকে এসে ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি দেখতে পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেলে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁ স্বামীকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। পরে আশে পাশের প্রতিবেশিরা এসে পুলিশে খবর দেন।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন,“স্থানীয় ইউপি সদস্যের মুঠোফোনে জানতে পারেন ঔ গ্রামের ঘরের আড়ার সাথে একজন লোক ঝুলে আছে। তবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরীকালে নিহত ব্যক্তির শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



Post Comment