হাতিয়ায় একসঙ্গে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্তে কীটনাশকের বিষাক্ত বাষ্পের সন্ধান

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরুদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে একসঙ্গে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘটনার একদিন পর প্রশাসনের তদন্তে বিদ্যালয়ের পাশের ধানখেতে স্প্রে করা এসিমিক্স কীটনাশকের বিষাক্ত বাষ্প শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। এ সময় তার সঙ্গে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ১০ম শ্রেণির ১৬ শিক্ষার্থী হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও অস্থিরতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। পরে তাদের মধ্যে ১৩ জনকে অচেতন অবস্থায় হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে রাতে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সবাইকে বাড়িতে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার তারা সুস্থ হয়ে আবার বিদ্যালয়ে এসে স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নেয়।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মঙ্গলবার সকালে ইউএনও রাসেল ইকবালের নেতৃত্বে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে। এ সময় বিদ্যালয়ের পশ্চিম-উত্তর পাশে একটি জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের সীমানাসংলগ্ন ওই জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার পর এর বিষাক্ত বাষ্প বাতাসের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অস্থিরতাসহ শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়ে।

জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সোমবারের ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটিত হওয়ায় এখন স্বস্তি ফিরেছে।

বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। অসুস্থ হওয়া ১৬ শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং মঙ্গলবার তারা সবাই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, সোমবার বিদ্যালয়ের পাশের জমিতে একজন কৃষক এসিমিক্স কীটনাশক স্প্রে করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে ওই কৃষক তার বাড়িতে থাকা কীটনাশকের বোতলটি তদন্ত দলের কাছে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, কীটনাশকের বোতলের গায়ে তীব্র ঘ্রাণ বা সংস্পর্শে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অস্থিরতা ও চেতনা হারানোর মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়া হওয়ার সতর্কতা উল্লেখ রয়েছে। ঘটনায় কীটনাশকের বোতলসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বিদ্যালয়ের সীমানাসংলগ্ন জমিতে স্কুল চলাকালে কোনো ধরনের কীটনাশক স্প্রে না করার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আশপাশে কীটনাশক ব্যবহার করতে হলে শুক্রবার ও শনিবারের মতো ছুটির দিন বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ১০ম শ্রেণির ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে অচেতন অবস্থায় হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ