স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৬

ফেনীর দাগনভূঞায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট, মুক্তিপণ দাবি এবং নির্যাতনের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দাগনভূঞা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ রাজ (১৯), লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার পূর্ব চর কলাকোপা এলাকার জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১), ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুরের মো. হারুনের ছেলে আব্দুল মন্নান মুন্না (২৯), সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরদরবেশ এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), দাগনভূঞার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯) এবং পৌর এলাকার উত্তর করিমপুর গ্রামের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই নারীর স্বামী অটোরিকশা চালিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ১১টার দিকে তারা দাগনভূঞা বাজারে পৌঁছান। অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ কমে যাওয়ায় এক বন্ধুকে ফোন করেন তার স্বামী। পরে ওই বন্ধুর সহযোগিতায় পৌর শহরের ফাজিলের ঘাট রোডের একটি অটোরিকশার গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জে দেওয়া হয়। এ সময় তারা গ্যারেজের পাশের একটি রেস্তোরাঁয় নাস্তা করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রীকে পাশের একটি দোকানের পেছনে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে বেঁধে মারধর করা হয়। তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, মুঠোফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে তাদের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে ভুক্তভোগী ও তার স্বামী স্বজনদের ফোন করেন। তবে স্বজনরা টাকা না পাঠিয়ে দাগনভূঞা থানায় বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।

এ ব্যাপারে দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওই নারীর স্বামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। এর আগেও বিভিন্ন সময় তিনি চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশা চালিয়ে নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় স্ত্রীসহ শুক্রবার রাতেও অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।  এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আরও এক আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ