সুবর্ণচরে স্বর্ণালংকার নিয়ে ১৩ বছরের কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে যুবকের উধাও, থানায় অভিযোগ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীর স্বর্ণালংকার নিয়ে তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছোট ভাইকে সঙ্গে করে সুশান্ত (২২) নামে এক যুবক পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ কিশোরের পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। কিশোরকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত যুবককে শনাক্ত ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবিতে চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ কিশোর মোঃ রাব্বি (১৩), পিতা মোঃ রফিক, সাং চর জিয়া, ০৯ নম্বর ওয়ার্ড, ০৫ নম্বর চরজুবিলী ইউনিয়ন, সুবর্ণচর, নোয়াখালী। অভিযুক্ত সুশান্ত (২২), তাঁর মায়ের নাম রেখা রানী। তাঁর বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহন থানাধীন ভোলা চর বশন এলাকায়।
অভিযোগকারী শারমিন আক্তার জানান, প্রায় সাত মাস আগে সুশান্ত তাঁর বাবার কাছে কাজের সন্ধানে আসেন। নিজের বাবা-মা মারা গেছেন, পড়াশোনা ও বোনের খরচ চালানোর জন্য কাজ প্রয়োজন—এমন কথা বলে তিনি তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। মানবিক বিবেচনায় শারমিনের বাবা তাঁকে মাটি কাটার কাজে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে সাগরে মাছ ধরার কাজেও সঙ্গে নেন। এভাবে পরিবারের বিশ্বস্ততা অর্জন করে সুশান্ত তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত ও বসবাস করতেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩ নভেম্বর সকালে শারমিনের বাবা তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে রাব্বিকে সঙ্গে দিয়ে সুশান্তকে শারমিনের স্বামীর বাড়িতে পাঠান। দুপুরে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেলে সুশান্ত পাশের দোকানে যান। রাতে বাড়ি ফেরার সময় তিনি তিনটি ডিংকু নিয়ে আসেন এবং শারমিন ও তাঁর দুই শিশুসন্তানকে একটি করে খেতে দেন। সেগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পর শারমিন অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ও দুর্বল অনুভব করে বিছানায় শুয়ে পড়েন।
পরদিন ৪ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে দুই শিশুসন্তানের চিৎকারে তাঁর ঘুম ভাঙে। তখনও তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। একপর্যায়ে নিজের কানে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার খুঁজে না পেয়ে দেখতে পান, ঘরের মধ্যে তাঁর ছোট ভাই রাব্বি ও সুশান্ত কেউই নেই।

শারমিনের অভিযোগ, তাঁর একজোড়া স্বর্ণের পাশা, ওজন ৪ আনা, কানের স্বর্ণের মুরকি, ওজন ৬ রত্তি এবং গলায় থাকা তিনটি স্বর্ণের তাবিজ, মোট ওজন ৭ আনা পাওয়া যাচ্ছে না। ডিংকু খাওয়ার পর অস্বাভাবিক ঘুম, স্বর্ণালংকার হারিয়ে যাওয়া এবং একই সময়ে সুশান্ত ও তাঁর নাবালক ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সুশান্তের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গে অচেতনকারী পদার্থ মিশিয়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে রাব্বিকে সঙ্গে করে পালিয়ে যাওয়ার সন্দেহ করছেন তিনি।

এ ঘটনায় শারমিন আক্তার বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও নিখোঁজ রাব্বি ও সুশান্তের সন্ধান পাননি।
নিখোঁজ রাব্বির বড় ভাই মোঃ শাহাদাত ও বাবা মোঃ রফিক জানান, তাঁদের পরিবারের নাবালক সন্তানকে দ্রুত খুঁজে পেতে তাঁরা সবার সহযোগিতা কামনা করছেন।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি নিখোঁজ মোঃ রাব্বির সন্ধান পেলে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
যোগাযোগ:
শারমিন আক্তার (বোন): ০১৮৪৫-৯২৫৮৯৫
মোঃ শাহাদাত (বড় ভাই): ০১৮১০-৪৬৯৫০৩
মোঃ রফিক (পিতা): ০১৮৭৯-৬২২৯৪৮
একটি ১৩ বছর বয়সী শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।



Post Comment