নোয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ কমছে না

সূত্র জানায়, গত সাত দিনে জেলায় ১ হাজার ১৮৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯৬ জনই আক্রান্ত হয়েছেন সুবর্ণচর উপজেলায়। বাকিদের মধ্যে ৩৪৫ জন নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ভাসানচরে রোহিঙ্গা আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯ জন। এ ছাড়া বেগমগঞ্জে ১০ জন, সোনাইমুড়ীতে ৫১ জন, চাটখিলে ৩৯ জন, সেনবাগে ৬৫ জন, কোম্পানীগঞ্জে ১৫ জন, হাতিয়ায় ৫৯ জন ও কবিরহাটে ৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এক সপ্তাহে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলার ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য-শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা ওয়ার্ডভিত্তিক উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মানুষজনকে ডায়রিয়ার প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া জেলার হাতিয়ার ভাসানচরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নাগরিকদেরও ডায়রিয়ার বিষয়ে সচেতনতামূলক স্বাস্থ্য-শিক্ষা বৈঠক করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার বলেন, ভাসানচরসহ জেলার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে তাঁর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক ও প্রচারপত্র বিলি করা শুরু করেছেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে উপদ্রুত এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি বিতরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের নানা পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার ডায়রিয়া পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।

প্রসঙ্গত টানা অনাবৃষ্টি, খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে জেলার সুবর্ণচর, হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এতে গত প্রায় পৌনে তিন মাসে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়। আর আক্রান্ত হয় ছয় হাজারের বেশি। মৃত ও আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ