সুবর্ণচরে মৎস্য ঘেরে শাকসবজি চাষ
মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল :
নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের ভাগ্য বদল হয়েছে মৎস্য ঘেরের উপর শাকসবজি চাষ করে। মাছ চাষের পাশাপাশি কৃষকরা মৎস্য ঘেরে বেড়ী বাঁধের উপর বিভিন্ন সবজির চাষ করে অতিরিক্ত লাভবান হচ্ছেন।
চরজুবিলী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম। বয়স পঞ্চাশ বছর। নিজের পোল্টি্র ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসে মাছ চাষ করেন,মৎস্য খামারের বেড়ী বাঁধে চারিদিকে শিম, পেঁপে, পুইশাক, ঝিঙ্গা, ঢেড়স, বরবটি’, শশা এবং বেগুন চাষ করছি। মাত্র ছয় মাস আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হারুন আর রশিদ এর পরামর্শ পাওয়ার পরে আমি আমার মৎস্য খামার গুলিকে সবজি চাষের আওতায় আনতে অনেকাংশে অনুপ্রাণিত হয়েছি।
বছর দুয়েক আগে শখের বসে তিনি মাছ চাষ শুরু করার পর থেকে তার মৎস্য খামারের বেড়ী বাঁধের খালি জায়গা গুলো খালি পড়ে ছিল। তিনি তার মৎস্য খামারের পাড়ে কেবল বরবটি আর লাউ চাষ করেই প্রথম বছরে কিছুটা লাভ অর্জন করেছিলেন। এই বছর বাঁশ দিয়ে তৈরি ওভার—হেড এবং অন—ল্যান্ড বেড়া উত্থাপনের পরে আবুল কাশেম এক সাথে পুকুরের পাড়ে বাঁধে ও দ্বীপে বিভিন্নজাতের মরিচ,শিম, বরবটি, লাল শাক,কলমি শাক,বেগুন,পালং শাক, শসা এবং পেঁপের চাষ শুরু করে তার অবস্থার দৃশ্য পরিবর্তন করে ফেলেন।
আবুল কাশেম জানান, প্রতি একর জমিতে সবজি চাষ করতে খরচ পড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা, এই সবজি বিক্রি করে ১লক্ষ থেকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা। একজন কামলা রেখে নিয়মিত পরিচর্চা করার পর সব খরচ মিটিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা মুনাফা লাভ থাকে।
গত মৌসুমে চাষ অনুযায়ী বেশ ভালো মুনাফা অর্জনের পরে তিনি ইতোমধ্যে এই মৌসুমে দুর্দান্ত দাম পেতে প্রাথমিক শিম, বেগুন, বরবটি এবং পেঁপে বিক্রি শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, আমি আশাকরি এই বছরের নভেস্বর মাসের মধ্যে আমার মৎস্য খামারের পাড় থেকে ৩ লাখ টাকারও বেশি পণ্য বিক্রি হবে।
আবুল কাশেম বলেন, সবজি চাষের ব্যয় প্রায় একই রকম হয় যেহেতু প্রতি বছর পাড় এবং খালি জায়গাগুলোতে বেড়া নির্মাণ করা দরকার। শাকসবজির শীতকালীন সময়ে কেবলমাত্র সামান্য কীটনাশক স্প্রে করা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হারুন আর রশিদ বলেন, পাড়ে সবজি চাষে আবুল কাশেমের সাফল্য লক্ষ্য করে এই উপজেলার অনেক কৃষক ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ফসলি জমি, মৎস্য ফার্ম এবং পুকুরের পাড়ে এবং সবজির চাষ শুরু করেছেন। আমরা কৃষকদের উদ্যোগকে প্রসারিত করতে সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছি ।আবুল কাশেম এই অঞ্চল এবং অন্যান্য কৃষকদের জন্য আইকন হয়ে উঠতে তার মৎস্য খামার গুলির পাড় এবং খালি জায়গাগুলিতে শাকসবজি চাষে অনুকরণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।



Post Comment