সুবর্ণচরে কাবিন রেজিস্ট্রির টাকা নিয়ে বিয়ে বাড়িতে সংঘর্ষ,১৪ দিনে মিমাংসা হয়নি

সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধি:


 বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রির টাকা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর এবং কনে পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে, এতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ উভয় পক্ষের ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। ঘটনার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার মিমাংসা হয়নি। স্থানীয় মেম্বার আক্তার হোসেন মিমাংসার দায়িত্ব নিলেও অজানা কারণে মিমাংসা করছেন না বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।

গেল মাসের ২৫ তারিখ বুধবার নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার ৫নং চরজুবলী ইউনিয়নের চর জিয়া উদ্দিন গ্রামের ঘটনাটি ঘটে ।

হামলায় আহত কনের ভগ্নীপতি গোলাম সারওয়ার বলেন, চরজিয়া উদ্দিন গ্রামের আব্দুল হালিমের সাথে একই গ্রামের মৃত সফিক উল্যাহর মেয়ের বিয়ের সকল অনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্যায়ে এসে কাবিন রেজিষ্ট্রেশন ফি ৪ হাজার টাকা বিয়ের ফর্দনামায় ছেলে পক্ষ দিবে লেখা থাকলেও সেটি ছেলে পক্ষ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ছেলের বাবা আব্দুল হালিম (৫৮), ভাই নিজাম উদ্দিন রিয়াজ, একই গ্রামের রুবেল (২৮), আবুল বাসার (২৫), সোহাগ(৩৩), নুর ইসলাম (২০এবং কনে পক্ষের গোলাম সারওয়ার (৩৭), ওসমান গণি (৪০), ইউনুছ মাঝি (৪০, নুর নেছা বেগম(৩৫), নুর বানু আক্তার (৩০), জুলেখা বেগম(৩৭)সহ কয়েকজন আহত হন।

এসময় হামলাকারীরা ঘরের সিন্দুক ভেঙ্গে নগদ টাকা এবং বিয়ের জন্য রাখা কনের মায়ের কাছে থাকা সালামির নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া অভিযোগ করেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল হালিম, রুবেল এবং সোহাগ স্বর্ণালংকার নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কাবিন রেজিঃ টাকা উভয় পক্ষ দেওয়ার কথা ছিলো। ফর্দনামায় শুধু ছেলে পক্ষের নাম লিখে এতে নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য ও বাকবিতন্ডা হয়। পরে আমরা টাকা দিয়ে বিষয়টি সেখানে মিমাংসা করে চলে আসি।ওই দিন সন্ধ্যার সময় মেয়ে পক্ষের কয়েকজন আমাদের লোকজনকে মারধর করে এতে রুবেল, সোহাগ,আবুল বাসার, নুর ইসলাম, রুমি আক্তার (২৫), মোঃ হেলাল (২৭), সাহেদ (৩২), আলা উদ্দিন (২৭) বেশ কয়েকজন আহত হয়।

স্থানীয় চর জিয়া উদ্দিন ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার আক্তার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি শালিসের তারিখ করেছি, বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে জানতে জানতে চাইলে চরজব্বর থানার উপ-পরিদর্শক মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, জরুরী সেবা নাম্বার ৯৯৯ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তবে স্থানীয় আক্তার মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়ায় আছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ