তরমুজ গাছের চারা সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!
সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামের কৃষক জায়েদুল হক পারভেজের সাড়ে তিন একর জমির তরমুজ চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে চরজব্বার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কৃষক। এর আগে, সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামের কৃষক পারভেজ সাড়ে তিন একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ওই তরমুজ গাছে ফল ধরেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ওই তরমুজ ক্ষেতের ১০০০ টি গাছ উপড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। সকালে কৃষক পারভেজ ক্ষেতে গিয়ে তরমুজ চারা উপড়ে ফেলা দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দেন। তার ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তরমুজ চারা উপড়ে ফেলার দৃশ্য দেখতে পায়। এতে তার প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষক পারভেজ ।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে কৃষক পারভেজ জমি বর্গা নিয়ে অন্যান্য কৃষকের মতো সাড়ে তিন একর জমিতে তরমুজের চারা রোপণ করেন। দুই সপ্তাহ পর তরমুজ তোলার সময় হতো। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখে পান তরমুজগাছগুলো নেতিয়ে পড়ে মৃতপ্রায়। ধারণা করেন, রাতে খেতে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ কওে চারা গাছগুলো তুলে েেলছে। এতে জমির সব তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকালে ওই উপড়ে ফেলা তরমুজ গাছের চারাগুলো পারভেজ চরজব্বার থানার পুলিশকে খেতে নিয়ে দেখান। এ ঘটনায় ওইদিন দুপুরে পারভেজ বাদী হয়ে একই এলাকার মাহবুবুল হক ও তার ছেলে ,আবদুল মালেকের ছেলে আবদুল জব্বার ও গাফ্ফারসহ ছয় জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
কৃষক জায়েদুল হক পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, তার এলাকা মাহবুবুল হক ও আবদুল মালেকের ছেলেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার বিষয় নিয়ে বিরোধ রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারাই রাতে আমার সর্বনাশ করার জন্য এ তরমুজ চারাগুলো উপড়ে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে কোটে হাজিরা দিয়ে আসার সময় পথে হুমকি দিয়েছিল আমাকে পথে বসাবে। আমার তরমুজ ক্ষেত নষ্ট করবে বলে । আমাকে শান্তি দেবে না।
স্থানীয় কৃষক হেলাল বলেন, মঙ্গলবার সকালে ডাকাডাকি শুনে পারভেজের ক্ষেতে গিয়ে দেখি অনেক তরমুজের চারা উপড়ে ফেলা। রাতের আঁধারে শত্রুতাবসত কেউ এ চারাগুলো উপড়ে ফেলেছে। এতে তো আমাদের মাঝেও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে আবদুল মালেকের ছেলে আবদুল জাব্বার তরমুজ চারা উপড়ে ফেলার কথা অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার পরিবারের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হালিম বলেন, এই ক্ষতি কোনোভাবেই মানা যায় না। গাছগুলো কৃষকের কাছে তাঁর সন্তানের মতো। সেভাবেই তিনি বড় করেছেন। যারা এই ফসলের ক্ষতি করেছে, প্রশাসন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে এটাই সবার প্রত্যাশা। ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ^াস দেন।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবপ্রিয় দাশ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Post Comment