সুবর্ণচরে গৃহবধুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ের পর নির্যাতিতার বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ

সুবর্ণচর(নোয়াখালী)প্রতিনিধি:


নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় রায় ঘোষণার পর থেকে নির্যাতিতা ঐ নারীর বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছেন চরজব্বার থানা-পুলিশ।

সোমবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরজব্বার থানা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক( তদন্ত) এর নেতৃত্বে দুইজন পুলিশ পরিদর্শকসহ কয়েকজন পুলিশ রাতে নির্যাতিত নারীর বাড়িতে পাহারা দিচ্ছেন।পুলিশের সাথে ইউপি সদস্য ও নির্যাতিতার স্বামীকে ছবি তুলে আড্ডা দিতে দেখা গেছে।

এর আগে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামিদের উপস্থিতিতে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ১৬ আসামীর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সকল আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেকের দুই বছরের স্বশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, মো. রুহুল আমিন, মো. হাসান আলী বুলু,মো. সোহেল, স্বপন, ইব্রাহীম খলিল, আবুল হোসেন আবু, মো. সালাউদ্দিন, মো. জসীম উদ্দিন, মো. মুরাদ পিতা মো. রফিক ও মো. জামাল হেঙ্জু।

বাকী যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্তরা হলেন, মো. হানিফ প্রকাশ বাগন আলী, মো. চৌধুরী, মো. বাদশা আলম প্রকাশ কুড়াইলা বাসু, মোশারফ,ও মো. সোহেল। এদের মধ্যে মো. মিন্টু প্রকাশ হেলাল পলাতক রয়েছে। আসামীরা সবাই সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের মধ্যম ব্যাগ্যা গ্রামের বাসিন্দা।

চরজুবিলী ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মঞ্জুর আলম বলেন, গতকাল রাত থেকে একাধিকবার ঐ বাড়িতে গিয়েছি। তাদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে থানা পুলিশ। থানা পুলিশ ডাকলে আমাকে ভিকটিমের বাড়িতে যেতে হচ্ছে।

চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, রায় ঘোষণার দিন সকাল থেকে ধর্ষিতার বাড়িতে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এলাকায় সচেতনতা জন্য জনগণের সাথে মতবিনিময় করা হয়।
পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মো. জয়নাল আবেদীন আরো বলেন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশের নজরদারি থাকবে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে এক নারীকে (৪০) মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার নারী চার সন্তানের জননী। নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ছিল, ভোটকেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের পছন্দের প্রতীকে ভোট না দেওয়ার জের ধরে ওই হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তখন দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। ওই ঘটনার পরদিন (৩১ ডিসেম্বর) নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চর জব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্ত শেষে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কার হওয়া প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন মেম্বারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিগত ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ