বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে আবার পেছাল বাংলাদেশে !

১২ সালে ২৮ দশমিক ৬ স্কোরসহ ক্ষুধার মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে ছিল। কিন্তু এরপর অগ্রগতি হচ্ছে ১২ সালে ২৮ দশমিক ৬ স্কোরসহ ক্ষুধার মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে ছিল। কিন্তু এরপর অগ্রগতি হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে চলতি বছর বাংলাদেশ ১২৭ দেশের মধ্যে ৮৪ তম হয়েছে। আগের বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮১ তম। ইউরোপীয় দেশগুলোর এনজিওর অর্থায়নে পরিচালিত গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) প্রকাশিত এক সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতি বছর অক্টোবরের শুরুতে এই সূচক প্রকাশ করে সংস্থাটি।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) চারটি মাপকাঠির ওপর বিচার করে প্রতিবেদন তৈরি করে। সেগুলো হলো—অপুষ্টির হার, উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুর হার, পাঁচ বছরের কমবয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার, পাঁচ বছরের নিচে শিশুমৃত্যুর হার।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১৯ দশমিক ৪। এই পয়েন্ট নির্দেশ করে, বাংলাদেশে এখনো ক্ষুধা আছে, তবে তা সহনীয়। এই সূচকের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার। যা ‘কম’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে সূচকে।

এ ছাড়া, সূচকের তথ্যানুসারে—বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৩ দশমিক ৬ শতাংশই শৈশবে তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধাগুলো পায় না। এর বাইরে, বাংলাদেশের ১১ শতাংশ শিশু শারীরিক-মানসিকভাবে দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের প্রতিবেদনে। অর্থাৎ, এই শিশুরা তাদের শারীরিক বিকাশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বয়স ও উচ্চতা অনুপাতে ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে না।। সবচেয়ে আশঙ্কার যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে তা হলো—দেশের ২ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুই পাঁচ বছর হওয়ার আগেই মারা যায়।

এবারের ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির অবস্থান ৫৬তম। আর সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা ১১৬ তম আফগানিস্তানের। ১২৭টি দেশের মধ্যে নেপাল ৬৮ তম ও পাকিস্তান ১০৯ তম অবস্থানে আছে। আর প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থান ১০৫তম। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে মালদ্বীপ ও ভুটানকে এই সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এর আগে, ২০২৩ সালে অর্থাৎ এক বছর আগে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮১ তম। সেই বিবেচনায় এ বছর বাংলাদেশ তিন ধাপ পিছিয়েছে। তার আগে, ২০২২ সালের এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৪ তম।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ