নোয়াখালীর গর্ব বজরা শাহী মসজিদ, মার্বেল পাথরে গাঁথা ঐতিহাসিক নিদর্শন
ইসমাইল হোসেন সজীব,কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার,চাটখিল,নোয়াখালী
নোয়াখালী জেলার অন্তরগত সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বজরা গ্রামে ৩০ একর জমিতে একটি দিঘি খনন করে দিঘির পশ্চিম পাড়ের উঁচু ভূমিতে ১৭৪১ খৃষ্টাব্দে জমিদার আমানউল্যাহ্ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদ, মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৬ ফুট, প্রস্থ প্রায় ৭৪ ফুট এবং মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট,চমৎকার মনোমুগ্ধকর মার্বেল পাথরের তৈরি ৩ টি গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ভীত মাটির প্রায় ২০ ফুট।
মোঘল স্থাপত্যের সৌন্দর্যে অনন্য নিদর্শন এই মসজিদ,এটি ২৯ নভেম্বর ১৯৯৮ সাল থেকে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত হয়, দিল্লির শাহী জামে মসজিদের নকশার অনুকরণে নির্মিত এই মসজিদ শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র ভারতবর্ষের প্রাচীন মসজিদের সৌন্দর্যের প্রতীক,তাই এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে এবং এই প্রাচীন মসজিদটি পরিদর্শন করতে মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন।
চারপাশ প্রাচীর বিশিষ্ট এই মসজিদের বিশেষত্ব হলো এখানে প্রায় প্রতিদিন বিশেষ করে শুক্রবার তথা জুমার দিনে নিয়ত মানত করতে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে পুরুষ মহিলারা সমগ্র বাংলাদেশ থেকে আসেন,এখানে নিরাপদ আশ্রয়ে বাইক,গাড়ি তথা যেকোন যানবাহন পার্কিং করারও ব্যবস্থা আছে,জুমার দিন এই কারুকার্য শোভিত মনোমুগ্ধকর মসজিদ পরিদর্শনে আসলে জুমা শেষে প্রায় তাবারুক গ্রহণের সৌভাগ্য মিলে,চাইলেই মসজিদের কবরস্থানে শতশত বছর আগের শায়িত অনেক পীর বুজুর্গ ব্যক্তিবর্গের কবর জিয়ারত করতে পারবেন,এই মসজিদে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে এবং পুরো মসজিদ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
বর্তমান ইমাম মাওলানা ইমাম হাসান সিদ্দিকী বলেন,”মোঘল সম্রাট মোহাম্মদ শাহের অনুরোধে পবিত্র কা’বা শরীফ থেকে বজরা শাহী মসজিদে প্রথম ইমাম হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন মাওলানা শাহ্ আবু সিদ্দিকী এবং উনার বংশধরাই যোগ্যতার আলোকে একের পর এক ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন আমিও তাদের বংশধর যদিও এখন ওপেন হার্ট সার্জারী হওয়ায় জুমাটা এখন আপাতত পড়াচ্ছিনা।”
মসজিদের মনোমুগ্ধকর কারুশিল্পের সাথে চোখে পড়বে খতীবের বসার কাঠের সুন্দর আসন এবং কিতাবের স্থান ও কিতাবে কিতাবে পরিপূর্ণ মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে মসজিদের দিঘির ঘাট, “হে ঈমানদার ব্যক্তিরা তোমরা আল্লাহ তা’য়ালা কে ভয় করো এবং সত্য ও ভালো কথা বলো”যারা সৎ পথে জীবিকা নির্বাহ করে তারা আল্লাহর বন্ধু”যার মধ্যে আমানত দারিতা নেই তার ঈমান নেই” এমন অনেকগুলা কুরআন ও হাদিসের বানী দৃশ্যমান মসজিদের চারপাশের প্রাচীরে।



Post Comment