কোম্পানীগঞ্জে নিহত আলাউদ্দিনের স্ত্রীর দুই সন্তান নিয়ে আহজারি
গিয়াস উদ্দিন রনি::
সিএনজি চালক স্বামী মো.আলাউদ্দিন (৩২) গতকাল মঙ্গলবার মাগরিবের সময় শেষ বারের মত ফোন করে স্ত্রী পারভিন আক্তার সুমিকে ফোনে জানিয়ে ছিলেন সিএনজি চালানো শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরবেন।
মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী সুমি আত্মীয় স্বজনদের থেকে জেনেছেন স্বামী বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় আ’লীগের দু’গ্রুপের গোলাগুলি সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়েই বিছানায় বসে বিলাপ করে যাচ্ছেন সুমি। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, জ্ঞান ফিরলে আবার বিলাপ করছেন। নিহত আলাউদ্দিন সিএনজি চালিয়ে জীবিকা করত পাশাপাশি স্থানীয় যুবলীগের কর্মি হিসেবে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।
নিহত আলাউদ্দিনের ৪ বছরের এক ছেলে ও দেড় বছর বয়সী একটি প্রতিবন্ধী মেয়ে রয়েছে। সুমি দুই অবুঝ সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে চলেছেন । এলাকাবাসী আলাউদ্দিনের স্ত্রী ও মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
সুমি বিলাপ করে বলছে, প্রতিবন্ধী এ মেয়ে নিয়ে এখন কি করুম। আমার মেয়ের চিকিৎসা এখন কে করবে। আমি কার ডালে যাবো। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটার বিচার চাই। আমি অবলা রাই (বিধাব) হোয়ে গেছে। কে আমাকে বরণ করে নেবেগো। আপনারা আমার মেয়েরে দিখলে বুঝবেন গো। আমি কি করুম গো, এই ছেলে মেয়ে দুটোরে লই। আমারে কে খাওয়াবে। আমি কেমনে চলুমগো। আমি দুটো ছেলে মেয়ে নিয়ে আমি কিভাবে খামু।
আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটার বিচার চাই। প্রধানমন্ত্রী এটার একটা লাইন করে দেক। নই আমি কার কাছে যাবু। শোকে কাতর মা মরিয়মের নেছাও চাইলেন ছেলে হত্যার হত্যার বিচার। এক গুলিতে তাদের সব স্বগ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। তিনিও প্রতিবন্ধী নাতনীকে নিয়ে করছেন বিলাপ, বলছেন অক্ষমতা ও আর্থিক সংকটের কথা। ।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আ.লীগের বিবদমান দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সিএনজি চালক মো.আলাউদ্দিন (৩২) মারা যায়। সে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মমিনুল হকের ছেলে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বসুরহাট বাজারের পৌরসভা প্রাঙ্গণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে দফায় দফায় কাদের মির্জা ও বাদল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’গ্রুপের অন্তত ১০জন গুলিবিদ্ধ ও ৩০জন আহত হয়।



Post Comment