অবৈধ ভাবে জনবসতি এলাকায় তিনটি পোল্ট্রি মুরগির খামার
জনদুর্ভোগ ডেস্ক :
সুবর্ণচর উপজেলার ৫নং চর জুবিলী ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামে একটি বসত বাড়ীতে ৩টি মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থী ।
অভিযোগ উঠেছে, নীতিমালা উপেক্ষা করে গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামারগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনও, সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে গ্রামবাসী পক্ষে শেখ আহমেদ নামের ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি।
জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ওই গ্রামের আমিনুল হক গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় তার নিজ বসত বাড়ীতে তিনটি পোল্ট্রি মুরগির খামার স্থাপন করেন। বর্তমানে খামারে পাঁচ হাজার ছোট/বড় পোল্ট্রি মুরগি রয়েছে। মুরগির বিষ্ঠার কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মুরগির বিষ্ঠার দুর্গন্ধে খামারের চারদিকে মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি মুরগির খামার স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি ও প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং জনগণের ক্ষতি হয় এমন স্থানে খামার স্থাপন করা যাবে না।
বিগত তিন বছর পূর্ব হইতে হারিছ চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী আল আমিন হোটেল এর স্বত্বাধিকারী আমিনুল হক তাহার বসত বাড়ি একটি লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তুলেন, মুরগির বিষ্ঠার দূর্গন্ধে আমিনুল হক বসত বাড়ি সংযুক্ত পূর্বপাশের ৫ পরিবারের বসবাস দায় হয়ে পড়েছে।

মুরগির বিষ্ঠার দূর্গন্ধে ৫ পরিবারের শিশুরাসহ ছোট বড় সকলে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েছে, একাদিকবার মুরগির খামার শরিয়ে নেয়ার কথা ভুক্তভোগীরা ও স্থানীয় গন্যমান ব্যক্তিবর্গ আমিনুল হক ও তাহার ছেলে আজিজুল হককে বলিলেও তাহারা কারো কোন কথা শুনিতেছেনা, তাহারা বলে, তাদের বাড়ীতে খামার করছে, এতে কারো সমস্যা হয়ে থাকলে তাদের কিছু আসে যায় না৷

আমিনুল হক খামারের মুরগি বিক্রি করে লাভবান হওয়ায়, গায়ের জোরে পুনরায় তাহার বসতবাড়িতে আরো একটি নতুন পোল্ট্রি মুরগির খামার গড়ে তুলে।
আমিনুল হক এর গৃহপালিত কয়েকটি কুকুর আছে, খামার ২ টির মরা মুরগি কুকুর মুখে করে নিয়ে এসে খায় ও যত্রতত্র স্থানে পেলে দিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছে । আমিনুল হক প্রভাবশালী হওয়ায় তাহার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
পোল্ট্রি ও লেয়ার মুরগির ২টি খামার গড়ে লাভবান হওয়ায়, পুন:রায় আমিনুল হক ও তাহার ছেলে আজিজুল হক তাহাদের বসত বাড়ীর বসত ঘর সামনে, চলাচলের রাস্তা পাশে, সুবর্ণচর উপজেলার ০৫নং চরজুবিলী ইউপি, ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজুবিলী গ্রামে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান -চরজব্বর ডিগ্রি কলেজ, শহীদ জয়নাল আবেদীন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ চর জব্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রোডে গড়ে তুলেন বিশাল বড় পোল্ট্রি ও লেয়ার মুরগির আরো একটি খামার।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রভাবশালী আমিনুল হক তার বসত বাড়ীতে, নিয়মবহির্ভূত অবৈধ ভাবে জনবসতি এলাকায় ৩টি ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তোলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে । তিনটি স্কুল/কলেজ এর কোমলমতি শিক্ষার্থী ও দক্ষিণ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার, হারিছ চৌধুরী বাজার (আটকোপালিয়া বাজার) যাওয়া যাতায়াতের রোডে নিয়মবহির্ভূত অবৈধ বিশাল বড় ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার ।

আমিনুল হক এর বাড়ীর পূর্বপাশ, ভুট্টোর বাড়ীর চলাচল পথে আরো দুটি পোল্ট্রি মুরগির খামার, মুরগির বিষ্ঠার দূরগন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ৫ পরিবার। ভুক্ত ভোগী সকলের পক্ষে শেখ আহম্মদ সুবর্ণচর নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয় বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।




Post Comment