আমি দুধে ধোয়া তুলশিপাতা

মাথা গরমে বাধ্য করিয়েন না, খেলার জন্য ঢাল-তলোয়ার ও প্রশিক্ষণ সবই আছে
আমি বলছি না যে, আমি দুধে ধোয়া তুলশিপাতা। তবে হ্যা, নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা সব সময়ই করে আসছি। পেশাগত জীবনের শুরুটা হয় কম্পিউটার সেন্টারে চাকরি দিয়ে। এক সময় নিজেও একটি কম্পিউটার সেন্টার দিয়েছি। কিন্তু পুঁজির অভাবে বেশিদিন তা ধরে রাখতে পারিনি। কলেজে পড়া অবস্থায় লেখালেখি করতাম। পরবর্তীতে এমএমসির মাধ্যমে ২০০০ সালে তৃণমূল সাংবাদিকতার উপর ৭ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করি সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করা। প্রবন্ধ লিখেছি, কবিতা লিখেছি, গল্প লিখেছি। তখনও কম্পিউটার সেন্টার চালাতাম। মাস লাইন মিডিয়া সেন্টারর (এমএমসি) নিজস্ব পত্রিকা লোক সংবাদ দিয়ে সাংবাদিকতা পেশা শুরু। তারপর চলমান নোয়াখালী, জাতীয় নিশান, নয়া সংবাদ, সোনালী জমিন, সতর্ক বার্তায় লিখতাম। এক পর্যায়ে স্থানীয় ধূমকেতু পত্রিকা সম্পাদনাও করেছি। গত ১১ বছর জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তায় কাজ করছি। সাথে গত ৫ বছর Channel 24 এ কাজ করে যাচ্ছি। সব মিলিয়ে দুই দশক পার করেছি সংবাদকর্মী হিসেবে। জীবদ্দশায় একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
যে কথা বলার জন্য এত কথা বলা, তা হচ্ছে- কুকুর হতে পারিনি। আজকাল মনে হয় মানুষ হওয়ার চেষ্টা না করে যদি কুকুর হওয়ার চেষ্টা করতাম, তাহলে এতদিনে বড়সড় একটা কুকুর হয়ে যেতাম। তাতেই মনে হয় ভালো হতো। কিছু মানুষের চেহারার কুকুরকে কামড় দিতে পারতাম। তখন বুঝতো কুকুরের কত বিষ। আর কামড় দেয়ার ভয় দেখিয়ে হাঁড়গোড় চুসেও খেতে পারতাম। এতে মনে হয় আমার মঙ্গল হতো, শহরে বাড়ি করতে পারতাম, টাকার পাচায় বাতাস লাগিয়ে বেলুন উড়াতে পারতাম। আর যেসব কুকুর আমাকে নিয়ে উল্টাপাল্টা লিখে, সেসব কুকুরের গাড়ে ঝাপটি দিয়ে ধরতে পারতাম। এসব লিখতাম না, দেখলাম প্রতিবাদ না করায় কুকুরটা বেশি গেউ গেউ করছে। তাই এবার ভাবলাম, কুকুর যখন পাগল হয়েছে, মোটাসোটা একটা মুগুর তো হাতে নিতে হবে। দেখি কুকুরের মাথায় একটা বাড়ি দেই, তখন ওই কুকুরের কোনো মালিক আসে কিনা বিচার করতে। তখন শালার মালিককেও দেখতে পাবো।
গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে এ যাবত আমার মনে পড়েনা, কারো ক্ষতি করেছি। তবে হ্যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করেছি, এতে হয়তো যারা অন্যায়, অনিয়ম ও অপরাধ সংগঠিত করে তাদের অন্যায় কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। সংবাদের কারণে অপরাধী, প্রতারক কিংবা অন্যায়কারী অপরাধ করতে বেগ পেয়েছে। সেটাই হয়তো কারো ক্ষতি করা। তবে বুকে হাত রেখে বলতে পারবো কোনো আপামর মানুষ বা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করিনি। আর হ্যা, সব স্থানে রাজনীতি আছে, তার মানে নোংরা রাজনীতি থাকা বা করা উচিত নয়। গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নিজেদেরও একটা গন্ডি আছে, সংগঠন আছে, সেখানে রাজনীতি হয়। না বললেই নয়, হয়তো অনেকে মনে করবেন আমি অহংকার করছি। যাই মনে করেন, তবুও বলতে হচ্ছে। তা হলো- সাংবাদিকতার বয়সে আমি যত প্রতিবেদন করেছি, যেসব কুকুর অশোভন সমালোচনা করে তারা তার শিকিভাগও করতে পারেনি। আমার করা প্রতিবেদন হয়তো কোনো অপরাজনীতিক, কোনো কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি বা যেকোনো শ্রেণির অপরাধীর ক্ষতি করেছে। আর সব সময় সাংবাদিকতা না করে যারা নিজেদের গায়ে সাংবাদিকের তকমা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায় তাদের বিরোধীতা করেছি, তাদের নিয়ে সমালোচনা করেছি। কিন্তু সাংবাদিকতা করে এমন কারো সমালোচনা কখনও করিনি। করলেও তা ছিল গঠনমূলক।
আরে আমার বিরুদ্ধে লিখেন, কথা বলেন কোনো সমস্যা নেই। যদি আমি প্রতারণা করে জেল খাটি; অসহায় মানুষের জায়গা দখল করি; বিটে বিটে চাঁদাবাজী করি, প্রতিটি দপ্তর থেকে মাসোয়ারা নেই; যদি সাংবাদিকতা করে নিরিহ, অসহায় কিংবা নিরঅপরাধ মানুষকে ফাঁসায়- তবেই আমাকে নিয়ে লিখুন। আর হ্যা, আমার করা প্রতিবেদনে যদি ঘাটতি থাকে, ভুল-ত্রুটি হয় সেক্ষেত্রে একজন সিনিয়র বা আমার চেয়ে আরো বেশি ভালো কাজ করে তেমন সহকর্মী আমাকে শেখাতে আসতে পারে- এটাইতো হওয়া উচিত? আমাকে পছন্দ করেন না তাতে সমস্যা নেই, সবাই আমাকে পছন্দ করতে হবে তাও আমি চায় না। তাই বলে যেকোনো কিছুতে আমার নাম জড়িয়ে দিতে চান কেন? আমাকে নিয়ে যাই করেন না কেন, অন্তত জেনে-বুঝে ও শুনেতো লিখবেন। সঠিকটাতো লিখবেন।
এবার হুশিয়ার করি। গত ৩ থেকে সাড়ে ৩ বছর আমি নোয়াখালী প্রেসক্লাব নিয়ে তেমন কোনো কথা বলি নাই, লিখি না। কারো সাথে উচ্চবাচ্চও করি না। যেহেতু এখনও বয়স আছে, তাই যশ থাকতে কীর্তন করার চেষ্টা করি। অর্থাৎ সব সময় নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করি। আমি কি কাজ করি না করি, আমার প্রতিষ্ঠানই ভালো জানে। ফালতু কেচাল মারার সময় কোথায়। সুতরাং আমাকে নিয়ে বেশি কেচাল বাড়ালে আমিও সব জানি বুঝি। কে কোথায় কি কি করে, কার কার থেকে চাঁদা নেয়, কার কাছে কতটুকু সরকারি জমি দখল আছে, কে হিন্দুর জমি দখল করে স্কুল বানায়, কোন মামলায় কে জেল খাটে, আরো খাটবে, কোন সাংবাদিক কতটুকু সাংবাদিকতা করে সবইতো জানা আছে। সুতরাং মাথা গরম করানোর দরকার কি? মাথাটাকে ঠান্ডা রেখে কাজ করতে দেন। এখন বয়স ৪১ মাত্র। আল্লাহ্ ভালো রাখলে আরো অন্তত ১০ বছর মাঠেঘাটে ঘুরে কাজ করতে পারবো। কাজ করি। কাজ শেষ করে না হয় অমুক-তমুকের পাচায় ছড়ি ঘুরাবো।
ক্ষমা করবেন ফেসবুক বন্ধুরা। অতি বিষে লিখতে বাধ্য হয়েছি। ধন্যবাদ সকলকে
সুমন ভৌমিক, নোয়াখালী, ০২.০৪.২০২২

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ