ঋণের টাকা না পেয়ে গরু নিয়ে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সেই নেতা বহিষ্কার

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় ঋণের টাকা না দেওয়ায় নার্গিস বেগম নামের এক গৃহবধূর গরু নিয়ে গেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. বেল্লাল খান। গত বুধবার সকালে শুক্তাগড় ইউনিয়নের গিঘড়া গ্রামে নার্গিস বেগমের বাসা থেকে গরু নিয়ে যান বেল্লাল খান। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় গরু ফেরত পান নার্গিস বেগম।

মো. বেল্লাল খান বলেন, ‘৯ বছর আগে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে আমি নার্গিসের স্বামী আবু বকরকে ২০ হাজার টাকা লোন তুলে দিয়েছিলাম। সেই টাকা এখনো ফেরত দেয়নি, তাই বাধ্য হয়ে গরুটা নিয়ে এসেছি। বর্তমানে সেই টাকা সুদ-আসলে ২৬ হাজার ৬০০ টাকা হয়েছে।’

নার্গিস বেগম জানায়, ‘গরুর বাচ্চাটিকে রেখে গাভিটি নিয়ে যাওয়া হয়। এতে বাছুরটি সারাদিন না খেয়ে কাঁদতে থাকে। বাধ্য হয়ে আমি আদালতে গিয়েছিলাম। কিন্তু মামলা না করে ফিরে এসে স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ জানাই। পরে স্থানীদের মধ্যস্থতায় গতকাল রাতে মীমাংসা হয়। ঋণ বাবদ আমাকে প্রতিমানে এক হাজার টাকা করে শোধ করতে। এরপর আমার গরু ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল তা আমলে নেয় এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বেল্লাল খানকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। বেল্লাল খান উপজেলার শুক্তগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

নার্গিস বেগমের স্বামী আবু বকর হাওলাদার গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকা ছেড়ে পলাতক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন যা ফিরে পেতে স্থানীয়রা প্রতিদিন তার বাড়িতে গিয়ে তাগিদা দেয়। নার্গিস বেগমের স্বামী আবু বকর হাওলাদার শুক্তগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রতন দেবনাথ বলেন, ‘বেল্লাল খান পাওনা টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে একটি অমানবিক কাজ করেছে যা আমাদের দলের সঙ্গে যা না। তাই দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ