একজন স্বেচ্ছাসেবীর গল্প!
নাজমুল হোসেন ::
“স্বেচ্ছাসেবী কাজ বলতে সাধারণত স্বার্থহীন কাজকে বোঝায় যা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো আর্থিক বা সামাজিক লাভের জন্য করে না”।
খাস বাংলায় “ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো লোকগুলোই স্বেচ্ছাসেবী” 😭😭।
বিভিন্ন দুর্যোগের সময় এই শ্রেণি নিজের ভালো-মন্দ চিন্তা না করেই জীবনকে বাজি রেখে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। নিজের পরিবার পরিজন এর কথা চিন্তা করে না, চিন্তা করে বিপদের মুখে থাকা মানুষ গুলোকে কিভাবে উদ্ধার করা যায় অথবা পাশে থেকে শেষ সময় পর্যন্ত লড়াই করা যায়।
স্বেচ্ছাশ্রম দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এমন উদাহরণও অপ্রতুল নয়।
এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে গত এক বছরের অধিক সময় ধরে কোভিড-১৯ এর মত ভয়াবহ পরিস্থিতি মাথায় নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী শ্রেণীর লোকজন কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন মানব কল্যাণ মূলক সংস্থা / প্রতিষ্ঠান এর সাথে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে যাদেরকে স্বেচ্ছাশ্রমের জন্য দেখেছি সবাই নিজ নিজ অবস্থানে যোগ্যতাসম্পন্ন একটা কাজে নিয়োজিত। নিজেদের পেশাগত কর্মের ফাঁকে মানবকল্যাণের বিষয়টি মাথায় রেখে কিছুটা সময় অতিবাহিত করায় তাদের মূল উদ্দেশ্য।
স্বেচ্ছাশ্রমে নিয়োজিত অধিকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৮ এর মাঝে, যদিও এই বয়স সীমার বাহিরেও অনেকেই আছে।
লকডাউন কালীন সময়ে এদের কার্যক্রম টা চোখে পড়ার মত, সেটা ২০২০ সালে যেমন ছিল, ঠিক ২০২১ সালেও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ সময়টায় রাস্তাঘাটে গাড়ি ঘোড়া চলে না এতে যাতায়াত ব্যবস্থায় প্রতি পদক্ষেপে কিছুটা হলেও বাধার সম্মুখীন হতে হয় তবে সে বিষয়গুলো মাথায় রেখেই এরা কাজ গুলোর সাথে নিজেদের মানিয়ে নেয়।
সারাদিন শত শত মানুষের মাঝে খাবার ও পানি বিতরণ করলেও দিনশেষে নিজেদের জন্য অবশিষ্ট একটি পানিও রাখে না!
প্রতি দিন ৪০০ টাকা ভাড়া বা ১০০০ টাকা গাড়ীর তেল পোড়ানো স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যাও কিন্তু কম নয়।
তবে হাজারো চেকপোষ্টে এদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নমনীয় ভাব সবসময় পরিলক্ষিত হয়। এটা সত্যি সম্মানের/ প্রাপ্তির একটা জায়গা।
বিনিময়হীন কাজে অসহায় মানুষগুলোর হাসিমুখ টাই এদের মূল্যায়ন। শহুরে যান্ত্রিক জীবনে এমন হাসি মুখের আগমন গুলো ভিন্ন রকম পরিতৃপ্তি নিয়ে আসে।
কোভিড ১৯ ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে যে বয়স সীমা ও ক্যাটাগরিগুলো দেওয়া হয়েছে তাতে স্বেচ্ছাসেবীদের কোন ক্যাটাগরি নজরে আসেনি(হয়ত আমি মিস করেছি)। তারমানে হতাশা জনক হলেও সত্যি স্বেচ্ছাসেবীদের কাজগুলো নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই।
স্বেচ্ছাসেবীদের ভ্যাকসিন নেওয়ার কাজটি যদি সহজতর করা হয়, দুর্যোগকালীন এই সময়ে এদের কর্মস্পৃহা আরো হাজার গুণ বৃদ্ধি পাবে।
আমরা বিভিন্ন সংস্থা/প্রতিষ্ঠান গুলোর নাম প্রতিনিয়ত উল্লেখ করি তারা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, সেখানে কি কখনো স্বেচ্ছাসেবী শব্দটি উচ্চারণ করা হয়েছে!
কোন বিনিময় নয়, শুধু প্রয়োজন অনুপ্রেরণার!
#স্বেচ্ছাসেবক।
লেখক ::
নাজমুল হোসেন, আমরা কিংবদন্তি গ্রুপের এডমিন



Post Comment