ঈদ সামনে, জমজমাট হাতিয়ার পশুর হাট: ছোট গরুর বড় বাজারে ভিড় বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার
ছোট গরুর বড় বাজারে ভিড় বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার
নোয়াখালী প্রতিনিধি :
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে জমে উঠেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটগুলো। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি সাইজের দেশি গরুর জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের হাটগুলোতে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এখানকার গরু যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার প্রাণকেন্দ্রে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসে ঐতিহ্যবাহী ‘হাতিয়া বাজার’। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে হাটের ব্যস্ততা। চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশে লালন-পালন করা ছোট ও মাঝারি আকারের দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
নদীপথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় শুধু হাতিয়া নয়, পার্শ্ববর্তী রামগতি, মনপুরা, সন্দ্বীপ ও ভোলা থেকেও খামারি ও ব্যাপারিরা গরু নিয়ে আসছেন এই হাটে। ফলে হাটজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশ।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার নোয়াখালী জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিরা প্রস্তুত করেছেন প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার পশু। ফলে জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জেলায় প্রায় ৬ হাজার ৬০০ খামারির অধিকাংশই এবার ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরু লালন-পালনে গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে হাটে দেশি গরুর সরবরাহও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
মাইজদী থেকে গরু কিনতে আসা ক্রেতা নিজাম উদ্দিন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। তবে এখানে ভালো মানের দেশি গরু পাওয়া যায়, তাই হাতিয়ার বাজারে এসেছি। কিন্তু বেপারিরা তেমন দাম ছাড়ছেন না।”
হাটের ইজারাদার আবদুল মতিন বলেন, “আমাদের বাজারে দেশি গরুর সুনাম রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা এখানে গরু কিনতে আসেন। সরকারি নিয়ম মেনে খাজনা নেওয়া হয় এবং ভালো বেচাকেনাও হচ্ছে।”
নোয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিরা যাতে সুস্থ ও নিরাপদ পশু হাটে আনতে পারেন, সে বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, চলতি বছর নোয়াখালী জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৯৮টি পশুর হাট বসেছে। পর্যাপ্ত পশুর জোগান থাকলেও দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে খামারি ও বিক্রেতাদের আশা, ঈদের শেষ সময়ে ক্রেতাদের চাপ আরও বাড়বে এবং তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ ঘরে তুলতে পারবেন।



Post Comment