জাতীয় প্রেসক্লাবে নোয়াখালী বিভাগের দাবিতে সমাবেশ

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নোয়াখালীকে পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে শনিবার (১১ অক্টোবর) বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকা, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষীপুর জেলা থেকে হাজারো মানুষ ‘নোয়াখালী বিভাগ চাই’—স্লোগান দিয়ে প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা সমিতির সভাপতি এম খান বেলাল ও সাধারণ সম্পাদক (ডিআইজি) আব্দুল মাবুদ দুলাল, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান আলো, নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন মঞ্চের আহ্বায়ক সময় মুরাদ, ঢাকাস্থ নোয়াখালী সাংবাদিক ফোরাম (এনজেএফ) এর আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক সৈয়দ মো. শহিদুল ইসলাম, দৈনিক আমার দেশের শিফট ইনচার্জ এফ আই মাসুদ প্রমুখ। এছাড়া ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও সমাবেশে অংশগ্রহণ করে।

বক্তারা বলেন, প্রশাসনিক বিভাজনের নামে দেশের অন্যান্য এলাকায় নতুন বিভাগ গঠিত হলেও নোয়াখালী অঞ্চল বছরের পর বছর অবহেলিত থেকে গেছে। নোয়াখালী বিভাগের দাবিকে এগিয়ে নিয়ে আসতে সমাবেশে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও পোস্টার—যেখানে লেখা ছিল, ‘নোয়াখালীর উন্নয়নের জন্য বিভাগ চাই’, ‘আমরা অধিকার চাই, অনুগ্রহ নয়’, ‘দিতে হবে, দিয়ে দাও নোয়াখালী বিভাগ চাই’, ‘দাবি মোদের একটাই নোয়াখালী বিভাগ চাই’ ইত্যাদি।

বক্তারা আরো জানান, নোয়াখালী জেলা ও এর আশপাশের ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বহু বছর প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত দিক থেকে পিছিয়ে আছে। সরকারি দফতরগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রাম বা ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় স্থানীয়রা প্রশাসনিক কাজে দূরে যেতে বাধ্য হন। তারা বলেন, নোয়াখালী বিভাগ হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পর্যটনেও ব্যাপক উন্নয়ন হবে।

কয়েকজন বক্তা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুর, দক্ষিণে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষণার পর এখন নোয়াখালী বিভাগের দাবি সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও সরকার এই অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়নি।

উপস্থিত এক তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই, কাজের সুযোগ চাই, সরকারি অফিসে ঘুরে ঘুরে কষ্ট পেতে চাই না। যদি আলাদা বিভাগ হয়, তাহলে আমাদের সবকিছু হাতের নাগালে আসবে।

স্থানীয় সংগঠকরা জানান, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ইতোমধ্যে মানববন্ধন, মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, নোয়াখালী শুধুমাত্র ভৌগোলিক নয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকভাবে একটি আলাদা পরিচয়ের অঞ্চল। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ও অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব এখানে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি আনতে বাধ্য করেছে।

বিক্ষোভে উপস্থিত বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নোয়াখালীর নাম হয়েছে শুধু ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের সঙ্গে। কিন্তু এই অঞ্চলে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। একটি বিভাগ হলে নোয়াখালী দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিকমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ, লিখেছেন, ‘নোয়াখালী বিভাগ চাই, এখনই চাই।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের জন্য এই দাবি উপেক্ষা করা কঠিন। তবে শাসকদল এখনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান ঘোষণা করেনি। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে আন্দোলন করছি না, আমরা করছি নোয়াখালীর মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য। এই আন্দোলন চলবে শান্তিপূর্ণভাবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে।

সমাবেশ শেষে এক বিশাল মিছিল পল্টন হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত অগ্রসর হয়। পুলিশি তৎপরতায় যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। নোয়াখালী বিভাগের দাবি এখন জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় উঠে এসেছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরো বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ