নতুন রাজনীতির কথা বলার চেষ্টা করছি: তাসনিম জারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করেই তিনি প্রচলিত মাইকিং বা শোডাউনের রাজনীতি এড়িয়ে চলছেন। তার মতে, মাইকিং, শোডাউন কিংবা ডিজিটাল ব্যানারে শহর ঢেকে ফেলা জনসেবার অংশ নয়। বরং তিনি সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে নতুন রাজনীতির কথা বলার চেষ্টা করছেন।

শনিবার মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. জারা জানান, তিনি অলিগলি, বাজার, মহল্লা ও বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং নিজের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরছেন।

জারা বলেন, “একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে নিজের মার্কা (প্রতীক) চেনানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। নারী প্রার্থী হওয়ার একটা ইতিবাচক দিকও আছে। নারীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে আমার কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারছেন। অনেকেই বলছেন, ‘আমাদের কথা অন্য কেউ বুঝবে না, তুমি বুঝবে, মা।’ এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’’

তবে নারী হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত থাকার নেতিবাচক দিকও তুলে ধরেন ডা. জারা। তিনি বলেন, ‘নেতিবাচক দিক হলো সাইবার বুলিং। শুধু আমি নই, জনজীবনে বা রাজনীতিতে সক্রিয় সব নারীই এর শিকার হচ্ছেন।’ নারীদের জন্য রাজনীতির মাঠ নিরাপদ করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি।

এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ডা. জারা বলেন, ‘আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং পার্কগুলোতে হাঁটার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে তিনি সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে বাসাবাড়ির পাশে, হাসপাতালের পাশে এবং স্কুলের পাশে বর্জ্য পড়ে থাকা সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতারই প্রমাণ।’

তার ভাষায়, ‘সিটি করপোরেশন যখন ফেল করছে, যখন দুর্ভোগ বাড়ছে, তখন মানুষ কার কাছে সমাধান চাইবে? সিটি করপোরেশন বলেন, তিতাস বলেন, ওয়াসা বলেন— এদের জবাবদিহির মধ্যে কে নিয়ে আসবে? সংসদ সদস্য চাইলে এসব সেবা সংস্থাকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে পারেন। নির্বাচিত হলে এটি আমার দায়িত্ব হবে।’

নির্বাচনে জয়ী হলে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ডা. জারা বলেন, সংসদে যেতে পারলে তিনি ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে খসড়া আইন প্রস্তাব করবেন এবং তা বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করবেন। তিনি বলেন, ‘তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তাহলে মাসিক বিল যেন মওকুফ হয়। খসড়া আইনে সেই প্রস্তাব থাকবে। সরকার যদি পাইপলাইনে গ্যাস দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভর্তুকি মূল্যে বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

তাসনিম জারা আরও বলেন,‘আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ ছিলাম না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের মতো পেশাজীবীদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিল। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো বহুমত। নির্বাচনের মাঠ কোনো ব্যক্তিগত দ্বৈরথের জায়গা নয়, এটি আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের মঞ্চ। আমার সাবেক সহকর্মী বা অন্য যারা প্রার্থী আছেন, তাদের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি মনে করি, যত বেশি যোগ্য প্রার্থী থাকবেন, ভোটারদের সামনে তত ভালো বিকল্প থাকবে। আমি আমার যোগ্যতা ও ভিশন দিয়ে মানুষের সমর্থন চাইব, ব্যক্তিগত কাদা-ছোড়াছুড়ি আমার রাজনৈতিক দর্শনের পরিপন্থি।’

বিডি প্রতিদিন/মুসা

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ