নোয়াখালীর সুবর্ণচরের তিন গ্রাম প্লাবিত
মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, প্রতিনিধি, সুবর্ণচর (নোয়াখালী):
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের তিন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মেঘনা নদীর শাখা ভুলুয়া নদীর পাশ^বর্তী বেড়ি বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে এই তিন’টি গ্রামের ঘর—বাড়ি। জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়েছে কয়েক শত একর জমির ফসল। এতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের বাসিন্দরা।
ক্ষতিগ্রস্থদের দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে টেন্ডার হওয়ার পর ও এ বাঁধটি সঠিক সময় মেরামত না করায় গত ৩—৪বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবী বাঁধটি বর্ষার মৌসুমে টেন্ডার হওয়ায় ঠিকাদার এই সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামত করতে পারেনি।
সরেজমিনে পশ্চিম চরজুবিলী ,মধ্যম ও দক্ষিণ চর ব্যাগ্গা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার মধ্যবতীর্ সীমানায় মেঘনা নদীর শাখা ভুলুয়া নদী। পশ্চিমে রামগতির চর রমিজ ও পূর্বে সুবর্ণচরের চরজুবিলীর চর ব্যা¹া গ্রাম। পশ্চিমে চর জেগে উঠায় সীমাহীন ভাঙনের কবলে পড়ে পূর্বাঞ্চলের বেডিঁ বাধ। বাঁধের ভাঙাংশ দিয়ে আশপাশের বাড়ী ঘর, মাছের খামার ও ফসলি জমিতে ডুকে পড়ে নদীর লবণাক্ত পানি। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রবাহে প্রচন্ড জোয়ারে বেড়ি বাঁধের অন্তত ৯শ মিটার ভেঙে গিয়ে লবণাক্ত পানি ডুকছে । আর এ জোয়ারের পানিতে প্রতি বারো ঘন্টায় এক বার গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এতে দুই তিন ঘন্টা স্থায়ীভাবে কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকে । বেড়ি বাঁধ মেরামত না করায় শুকনো মৌসুমে যে পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছে ভরা বর্ষায় আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশংকা করছে বাসিন্দারা।
৪নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কৃষক চৌধুরী আলম বলেন, পূর্ণিমার সময় ভুলুয়া নদীর পার্শ্ববর্তী ভাঙা বেড়ি বাঁধের ভিতর দিয়ে পানি ডুকে ক্ষেতের ফসল নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ক্ষেতে থাকা অবশিষ্ট গাছগুলো মরে গেছে। এখন ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে বসত ঘরের সব কিছু হারিয়েছে।
৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহানারা বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রবাহে ভুলুয়া নদী থেকে বেড়ি বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ডুকে পড়ে বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে। গত দুই—তিনদিনে একাধিক বার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় তার বাড়ি ঘরে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সব কিছু হারিয়ে নিজের ৫ মেয়ে ও ২ ছেলেকে নিয়ে একদিকে যেমন মানবতর জীবন কাটছে অন্যদিকে এনজিওর ঋণ ও সুদের টাকা কিভাবে শোধ করবেন তার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না এ নারী।
প্লাবিত এলাকা গুলো ঘুরে দেখা গেছে, বেড়ি বাঁধের মেরামত না করায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রবাহে জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন এ তিন গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবার। এক শত একর জমির মাছের ঘের হারিয়ে অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রতিনিধি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে বেঁড়িবাধঁ দিয়ে পানি ডুকে সর্বশান্ত হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। তাদের প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে কৃষি। এ বেড়ি বাঁধের মেরামত না করায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূযোর্গের উপকূলের কৃষকরা বার বার ক্ষতির মুখে পড়ছে। এতে চাষে কৃষকদের আগ্রহ হারাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএসএম ইবনুল হাসান ইভেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রবাহে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ব্যা¹া গ্রামের ভুলু নদীর পাড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ি বাঁধটির মেরামতের জন্য সিডিএসপি আওতায় ৫কোটি ৬০লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্ষার মৌসুমে টেন্ডার হওয়ায় ঠিকাদার এই সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামত করতে পারেনি। খুব দ্রুত বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ ৩শ মিটার মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।



Post Comment