নির্বাচন—পরবর্তী সহিংসতা: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে খলিল মেম্বারের সমর্থকদের হামলায় ছয়জন আহত
নোয়াখালী প্রতিনিধি::
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন—পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ৪নং ওয়ার্ড পরাজিত প্রার্থী মো.খলিল উল্যাহর ভাই ও ভাগিনাসহ সমর্থকদের হামলায় বিজয়ী প্রার্থী মনজুর আলমের বড়ভাই ও সমর্থকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলার পাংখার বাজারে এলাকায় দীঘির পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চরজুবিলী ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিজয়ী সদস্য প্রার্থী মনজুর আলমের বড়ভাই সালা উদ্দিন(৪০),মুরাদ (২৬),সোহেল,আলমগীর,হুমায়নসহ ছয়জন আহত হন। আহতদের সুবর্ণচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল(বৃহম্পতিবার) চরজুবিলী ইউপি নির্বাচনের পর শুক্রবার সকালে ইউপির বিজয়ী সদস্য প্রার্থী মনজুর আলম স্থানীয় বাজারে পরাজিত প্রার্থী মো.খলিল উল্যাহর সাথে দেখা করে কোলাকুলি করে দুইজন এক সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন। মনজুর আলম বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে দেখা করে অন্যত্র চলে যান। এরপর স্থানীয় বাজারে গুজব ছড়িয়ে পড়ে মনজুর আলম আর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী খলিলকে আটকে রেখেছে। এতে উত্তেজিত হয়ে ঘটনা যাচাই না করে পরাজিত প্রার্থী খলিলের সমর্থকেরা দেশি অস্ত্র, লোহার রড নিয়ে মনজুর আলমের সমর্থকদের উপর হামলা করেন। এতে ৬ জন আহত হন। এছাড়াও এজেন্ট হওয়ায় ও ভোট না দেওয়ার অভিযোগে খলিলের লোকজন এক ভোটারের দোকানে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
৪ নম্বর ইউপি সদস্য প্রার্থী মনজুর আলমের ভাষ্য, ফলাফল পাওয়ার পর তাঁর কর্মী সমর্থকদের কোন ধরনের বিজয় মিছিল কিংবা জড়ো হতে দেননি। তিনি নিজে বাজারে এসে পরাজিত সদস্য খলিল উল্যাহর সাথে কোলাকুলি করে বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে দেখা করে স্থানীয় একরাম নগর বাজারে চলে আসেন। এরপর তিনি জানতে পারেন তাঁর লোকজনকে খলিল মেম্বারের ছোটভাই মাইন উদ্দিন ও ভাগিনা ইউছুপের নেতৃত্বে দেলোয়ার,আশরাফসহ ১০—১২জন হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করছে। তিনি ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
মনজুর আলম বলেন, প্রশাসনের কঠোর নজর দারিতে ভোট হওয়ায় পরাজিত প্রার্থী খলিল উল্যাহ কোন সুবিধা করতে না পেরে রাতে ভোট না দেয়ায় অনেক কর্মী সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।এরপর সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে ইউনিয়নের মধ্যম ব্যাগ্যা গ্রামে তাঁর বড়ভাই সালা উদ্দিনকে একা পেয়ে লোহার রড় দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী খলিল উল্লাহ বলেন, নির্বাচন হওয়ার পর তিনি ফল মেনে নিয়ে তাঁর সব কর্মী—সমর্থককে নিজের বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তিনি নিজেও বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁর কোনো লোক কোনো ধরনের হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি যত দূর জেনেছেন, হামলার ঘটনা বিজয়ী প্রার্থীর লোকজন এর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, আজ শুক্রবারের হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।



Post Comment