নোয়াখালী সুবর্ণচরে খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ ২৬টি স্থাপনা

আবদুল জববার, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি


নোয়াখালীর সুবর্ণচরের হারিছ চৌধুরী বাজারের পাশে হাবুর খাল দখলমুক্ত করতে আজ বুধবার দুপুরে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেন মং রাখাইন।

অভিযানকালে খাল দখল করে গড়ে তোলা ২৬টি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে সহায়তা করেন বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. জুয়েল হোসেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

দীর্ঘদিন ধরে খালটি অবৈধ দখলে থাকায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় কৃষকেরা সেচ সংকটে পড়েন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, “এই খালের পানিই আমাদের চাষাবাদের একমাত্র ভরসা ছিল। খাল দখলের কারণে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। এখন খাল মুক্ত হওয়ায় আমরা আবার চাষাবাদে সুবিধা পাবো।”

উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল বারী বাবলু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা খাল রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। আজকের অভিযানে প্রমাণ হলো, প্রশাসন চাইলে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা সম্ভব।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেন মং রাখাইন বলেন, “সরকারি খাল কেউ দখল করে ব্যবহার করতে পারবে না। হাবুর খাল সুবর্ণচরের কৃষি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য দখল হওয়া খালও পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হবে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা রোধে খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

এর আগে গত শনিবার ও রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান সুবর্ণচরের বিভিন্ন পানি সংকটাপন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা খাল ও নদীর উৎসস্থল ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন যেন দ্রুত দখলমুক্ত অভিযান চালিয়ে প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা করা হয়।

সচিবদের মতে, প্রাকৃতিক পানির উৎস সংরক্ষণ ছাড়া কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ