নোয়াখালীতে ধর্ষণের পর অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা, অভিযুক্ত যুবক আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধি ::


নোয়াখালীর সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়ন এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৬)  তুলে এনে ধর্ষণের পর মারধর করে গলায় ফাঁস দিয়ে

হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  তবে লাশের শরীরে একাধিক ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে মাইজদী বসিরের দোকান এলাকায় রেললাইনের পাশে একটি ব্যাচেলর ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে কথিত প্রেমিক রায়হানকে (১৯) আটক করে সুধারাম থানা পুলিশে সোপর্দ করে। সে বেগমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ খানপুর গ্রামের ডা.আবদুল মোতালেবের ছেলে। নিহত ওই কিশোরী স্থানীয় এক মাদ্রাসর দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহতের বড় বোন অভিযোগ করেন, চরমটুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রাকিব (২০) ও রায়হান (২১) উদয় সাধুর হাট বাজার থেকে মাদ্রাসা ছাত্রীকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা তাকে মাইজদী বসিরের দোকান এলাকায় রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে কথিত প্রেমিক রায়হানসহ একাধিক তরুণ মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। ১১টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরী কৌশলে তাকে (বড় বোন) ফোন করে ঘটনাটি জানায়। সে ফোনে বলে আপু আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমারে এখান থেকে নিয়ে যা। আমি মাইজদীর আশে পাশে আছি। তবে একবারে সঠিক ভাবে বলতে পারবোনা কোথায় আছি। আমি পরে তোদের সব বলব। এর পরেই ধর্ষণকারীরা নির্যাতিতা কিশোরীর ফোন বন্ধ করে দেয়  এবং ধর্ষণ শেষে তাকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে। দুপুর দেড়টার দিকে অভিযুক্ত রায়হান ওই কিশোরীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে গুরুত্বর আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে তার বোনের মরদেহ রেখে সে পালিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের ফটক থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নোয়াখালী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আনোয়ারুল আজিম জানান, হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। লাশের শরীরে একাধিক ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
সুধারাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে এবং রিপোর্ট অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ