নোয়াখালীতে বসেছে অনলাইন “পশু বাজার.নোয়াখালী”

মুজাহিদুল ইসলাম সোহল,প্রতিনিধি, সুবর্ণচর (নোয়াখালী)::


করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরাসরি হাটে ক্রেতাদের ভিড় কমাতে ডিজিটাল হাট বসিয়েছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে এর কার্যক্রম চলছে। গ্রুপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পশু বাজার, নোয়াখালী’।

এই গ্রুপটি ফেসবুক ব্যবহারকারী সবাই দেখতে পারবেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে অনলাইন পশু বাজারটি সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন ।

জেলা প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গ্রুপটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এ অনলাইন হাটে খামারিরা নিজেদের পশুর ছবিসহ বর্ণনা আপলোড করবেন। পছন্দ হলে ক্রেতা সরাসরি খামারির সঙ্গে যোগাযোগ করে পশু কিনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবেনা।

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, ডিজিটাল হাটের ফেসবুক গ্রুপে নোয়াখালীর সব খামারিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে খামারিরা গরুর দামসহ ছবি আপলোড করছেন। ইতিমধ্যে ১৮ হাজারের বেশি গরুর বর্ণনা আপলোড করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে সাড়ে চার শ গরু।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান আরো জানান, অনলাইনে বেচাকেনা কোন ধরনের প্রতারণার সুযোগ নেই।পশু খামারিরা ছবিসহ পশু আপলোড করার পর ক্রেতারা সরাসরি খামারে গিয়ে পশু  ক্রয় করবেন।

জেলা প্রশাসকের ডিজিটাল অনলাইন “পশু বাজার. নোয়াখালী. তদারকিতে সহযোগিতা করছেন  জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তা বৃন্দ।

এ দিকে মাঠে ঘাটে বসা হাটকে ঘিরে সরকারের দেওয়া সব শর্ত পালনে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইজারাদারেরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার  বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে ইজারা দেওয়া সব হাটে পশু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এসব হাটের মধ্যে সুবর্ণচরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হারিছ চৌধুরী বাজার চরজব্বার ডিগ্রি কলেজ মাঠ, চরবাটা খাসের হাট, সৈকত সরকারি কলেজ মাঠ, পূর্ব চরবাটা ছমির হাট বাজার, আক্তার মিয়ার হাট, সওদাগর বাজার, সেন্টার বাজার হাট, পাংকার বাজার, আলামিন বাজার, উপজেলা হালিম বাজার, জনতা বাজার ও বাংলা বাজার পশুর হাট বসবে । এগুলোর মধ্যে উপজেলার সবচেয়ে বড় হাটটি বসবে হারিছ চৌধুরী বাজার চর জব্বর ডিগ্রি কলেজ মাঠে। এইভাবে খুঁটি  কিংবা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। খোলা মাঠে দূরত্ব বজায় রেখে পশু বিক্রেতারা নিজেদের পশুর সাথে থাকা খুঁটির মধ্যে বেঁধে রাখবে।

কোরবানির পশুর হাট। আগামী শুক্রবার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে এসব হাট। তবে শর্ত হচ্ছে হাটে আসা ক্রেতা–বিক্রেতাদের মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে রাখতে হবে পশু। এমনটা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সুবর্ণচরের হারিছ চৌধুরী বাজার চর জব্বর ডিগ্রি কলেজ মাঠ হাটের ইজারা নিয়েছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত হাটে গরু বেচাকেনা চলবে। এ হাটকে ঘিরে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

হাট বসার বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৈতী সর্ববিদ্যা বলেন, প্রত্যেকটি হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)  বলেন, হাটের প্রবেশপথে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ব্যবস্থা করবেন ইজারাদারেরা। ক্রেতা–বিক্রেতাদের স্যানিটাইজার, হ্যান্ডস গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলেও জানান তিনি।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ