নোয়াখালীর সুবর্ণচরে খাসজমি দখলের অভিযোগে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:


নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সরকারী খাসজমি দখলের অভিযোগে এক চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ)দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সরকারি ভূমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ(শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউছুফ স্বাক্ষরিত নোটিশ ওই চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়।

চেয়ারম্যানের নাম মোহাম্মদ মহি উদ্দিন চৌধুরী। তিনি উপজেলার ৮নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান মো. মহি উদ্দিন চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান।

ওই ভূমিতে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনিস্টিটিউট’ স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে

স্থানীয় সরকার শাখা নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশ সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩০৬ নম্বর উরির চর মৌজা ও ২৬৬ নম্বর চর এলাহী মৌজার সরকারী ১ নম্বর খাস খতিয়ানভূক্ত ভূমি জবরদখল করেন। পরে বিভিন্ন ব্যক্তিগতকে অবৈধভাবে বন্দোবস্ত (লীজ) দিয়ে আসছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো.আরিফুর রহমান সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণ পেয়ে দখলদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করেন। নোটিশে আরো বলা হয়েছে ওই ভূমিতে “দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনিস্টিটিউট” স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই দুই মৌজার ভূমি নিয়ে মহামান্য আদালতে একটি রিট পিটিশন মামলা চলমান রয়েছে।

খাসভূমিতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় দখলের মত কার্যকলাপ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৮ (৮) (ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সামিল হওয়ায় তাঁর(চেয়ারম্যানের) বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে কেন প্রস্তাব প্রেরণ করা হবেনা তা এ নোটিশ প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ৮নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহি উদ্দিন চৌধুরীকে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে ।

সরকারি খাস জমি অবৈধ দখল করে তা বন্দোবস্ত(লিজ) দেয়ার বিষয়ে জানতে রাত সাড়ে আটটার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মহি উদ্দিন চৌধুরীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা আমি বন্দোবস্ত দেয়ার কেউ না। কেউ প্রমাণ করতে পারবেনা তিনি কাউকে জমি বন্দোবস্ত দিয়েছি। প্রমাণ করতে পারলে তিনি স্বেচ্ছায় চেয়ারম্যানের পদ থেকে অবসর নেবেন। উল্লেখিত ৩০৬ নম্বর উরির চর মৌজা ও ২৬৬ নম্বর চর এলাহী মৌজায় তাঁর কোন স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

সুবর্ণচর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে চেয়ারম্যান মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি ভূমি দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনের পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তার দখলকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ৭শত একর।

তিনি আরো বলেন, চর আক্রাম উদ্দিন মৌজায় একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। তাদের দখলে ইতোমধ্যে অনেক ভূমি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে বিশাল এলাকা দখলের জন্য অনেকগুলো এক্সকেভেটর নিয়ে এসেছিল। সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্সকেভেটর এর লোকজন এক্সকেভেটর রেখে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কাউকেই ধরা যায় নি। যারা এর সাথে জড়িত তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সরকার শাখা নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, সরকারি ভূমি দখলের বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের ৭(সাত)কার্য দিনের মধ্যে তাকে ব্যাখা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন,ভূমি বন্দোবস্ত দেবে সরকার। সরকারী খাসভূমি দখল করার ইখতিয়ার কারো নেই, চেয়ারম্যান বা অন্য কেউ দখল করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওই ভূমিতে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনিস্টিটিউট’ স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ