নুর আলাম ধর্মপুরী: পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস রমজান
নুর আলাম ধর্মপুরী::
রহমত, বরকত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে আমাদর দরজায় কড়া নাড়ছে মাহে রমজান। আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামি কাল থেকে আমরা রোযা রাখা শুরু করবো। রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট নেয়ামত। সারা বছরের পাপ এমাসে আল্লাহর কাছ থেকে মাপ চেয়ে নিতে হবে। যে ব্যক্তি রমজান মাস পেলো অথচ আল্লাহর দরবার থেকে কৃত গুনাহ মাপ চেয়ে নিতে পারলোনা, তার চেয়ে হতভাগ্য আর কে হতে পারে। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহর নবী অভিশম্পাত করেছেন। কারন এ মাসে আল্লাহ অগনন মানুষকে ক্ষমা করে জান্নাতের ডাইরিতে নাম তোলেন। আমরা যাতে সে তালিকায় থাকতে পারি সে জন্যে পুরো রমজান ব্যাপি আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।
এ মাসে আমাদেরকে এবাদতে গভীর মনোযোগ দিতে হবে। প্রত্যেক এবাদতের জন্যে আল্লাহ রমজান মাসে নুন্যতম সত্তর গুন সওয়াব দিয়ে থাকেন। কোন কোন বর্ননায় রয়েছে বেহিশেবে প্রত্যেক এবাদতের সওয়াব প্রদান করা হয়। এটা শুধুমাত্র রমজান মাসে দেওয়া হয়। অন্য কোন মাসে এমন সওয়াব দেওয়া হয়না। প্রতিটি নফল এবাদতের জন্যে একটি ফরজ এবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হয়।
পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস রমজান। এমাসের হক হলো কুরআন বুজে পড়া। তেলাওয়াতের সাথে সাথে কুরআন অধ্যয়ন করে বাস্তবিক জীবনে আমল করার মাধ্যমে কুরআনের হক আদায় করতে হবে। যারা কুরআন পড়তে পারেনা তাদের জন্যে রমজান হলো কুরআন শিক্ষার সুবর্ন সময়। বর্তমান সময়ে কুরআন শিক্ষার বিভিন্ন ডিজিটাল এ্যাপ রয়েছে যে কেউ ইচ্ছা করলে ঘরে বসে কুরআন শিখতে পারবে। এসব সুযোগ রমজানে কাজে লাগানো দরকার। যাদের কুরআন সহী নেই তারাও রমজান মাসে কুরআনকে সহি ভাবে শিখে নেওয়া দরকার।
এমাসে যাবতীয় পাপাচার থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। বড় বড় শয়তান শৃঙ্খল পরা থাকলেও ছোট ছোট শয়তান গুলো আমাদের কে রমজানের সওয়াব থেকে বিরত রাখার সব চেষ্টা করবে। শয়তানের চর্তুমুখী হামলা রুখে দিতে হবে। যাতে বেশি বেশি এবাদত করা যায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এবাদতের সাথে যায়না এমন কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। নামাজ পড়ার সেলফি, ইফতারীর সেলফি, কাউকে দানের সেলফী এসব থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে শয়তানের ঘুটি চালার সুযোগ থাকে। শয়তান এমন চালবাজী করবে যাতে আমাদের এবাদতের সওয়াব নষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
গরীব আর অসহায় মানুষকে এমাসে বেশি বেশি সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে। তারা যাতে সুন্দরভাবে রোযা রাখতে পারে সে দিকে নজর দিতে হবে। রমজানের প্রতিদিন সামর্থ অনুযায়ী নিরন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। কেননা এক টাকা দান করলে সত্তর টাকার সওয়াব। এমন বোনাস আল্লাহ ছাড়া আর কে দিতে পারে।



Post Comment