পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর: পাঁচ রাস্তার উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে সুবর্ণচরের লাখো মানুষ
সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
গত বছরের জুলাই আগস্ট মাসে প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় সুবর্ণচরের রাস্তাগুলোর বেহাল দশা নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে ১০ রাস্তার সংস্কারের ব্যবস্থা নেন।
সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় আটকপালিয়া বাজার থেকে একরাম নগর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার যেতে সময় লাগত প্রায় ১ ঘণ্টা। একই অবস্থা ছিল মোহাম্মদপুর থেকে চরক্লার্ক পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কের। ভুঁইয়াহাট থেকে যোবায়ের বাজার রাস্তাসহ পাঁচটির উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এখন দ্রুত গন্তব্যস্থলে যেতে পারছে এই পথ দিয়ে চলাচলকারীরা।
তবে এই রাস্তার কাজ করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ঠিকাদার। তাদের অভিযোগ দিনে কাজ করে এলে রাতে দূষ্কৃতিকারীরা খুঁন্তি দিয়ে নরম বিটুমীন যুক্ত রাস্তা খুঁচিয়ে তুলে ফেলেন। ফলে দিনের বেলায় ঐ রাস্তা দেখতে খারাপ লাগে পুনরায় কার্পেটিং করতে গিয়ে খরচ বেড়ে যায়।
সড়ক গুলো হলো-১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে উপজেলার পরিষ্কার বাজার থেকে ছিদ্দিক মেম্বারের দোকান পর্যন্ত ৪হাজার মিটার সড়ক। ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে আটকপালিয়া বাজার থেকে পরিষ্কার বাজার পর্যন্ত ২৩০০ মিটার সড়ক। ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আক্তার মিয়ার বাজার থেকে বেড়ি পর্যন্ত ১হাজার ৯শত ২২মিটার মিটার সড়ক।
উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের জনতা বাজার থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩হাজার ৫শত মিটার সড়ক। উপজেলার ভূঞার হাট থেকে জোবায়ের মিয়ার বাজার কৃষি ইনস্টিটিউট পর্যন্ত ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২হাজার ২৯মিটার।
এলজিইডি সুবর্ণচর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘শহরের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে যাবে গ্রামে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে এলজিইডি। গ্রামীণ রাস্তা প্রশস্তের পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সুবর্ণচর। উপজেলার নতুন করে রাস্তা নির্মাণ, ভেঙে যাওয়া রাস্তা মেরামত ও উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার আটকপালিয়ার বাজার থেকে পরিস্কার বাজার সড়ক, ভুঁইয়াহাট থেকে যোবায়ের বাজার রাস্তার মাথা সড়ক, জনতা বাজার থেকে বাংলা বাজার, পাংখার বাজার, একরামনগর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া রাস্তার সংস্কারসহ নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি।
এতে করে গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ যেমন সহজ হয়েছে তেমনি উৎপাদিত ফসল হাটে বাজারে নেয়া এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গন্তব্যস্থলে যেতে পারছে জনসাধারণ।
আটকপালিয়া বাজারের বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ জানান, রাস্তা মেরামতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই কমেছে, পাশাপাশি সড়কে আগের তুলনায় বেড়েছে যান-চলাচল। রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেচাকেনা বেড়েছে। কৃষক সহজেই তাদের উৎপাদিত ফসল হাটে-বাজারে নিয়ে গিয়ে ভালো দামও পাচ্ছেন।
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কামাল উদ্দিন জানান, আটকপালিয়া বাজার থেকে পরিস্কার বাজার হয়ে একরামনগর পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশার কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। রাস্তা সংস্কার হওয়ায় দ্রুত যাতায়াতসহ এলাকার উৎপাদিত ফসল স্থানীয় বাজারসহ আশেপাশের কয়েকটি হাটে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে, এতে করে কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পাচ্ছে।
চরক্লার্ক ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আবুল বাসার জানান, তার ইউপিতে এলজিইডির অর্থায়নে দীর্ঘদিনের ভাঙা রাস্তা মেরামত হয়েছে এতে করে গ্রামীন জনগোষ্ঠি ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুণগত মান ঠিক রেখে কাজটি করেছেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা এন্ড সন্স এর সহযোগী ঠিকাদার কামরুল ইসলাম জানান, পরিস্কার বাজার থেকে একরামনগর পর্যন্ত কাজ শতভাগ ওয়ার্কঅর্ডার মেনে করা হয়েছে যার সুফল এই এলাকার মানুষ পাবে। ঐ এলাকায় দিনে কাজ করে এলে রাতে দূষ্কৃতিকারীরা খুঁন্তি দিয়ে নরম বিটুমীন যুক্ত রাস্তা খুঁচিয়ে তুলে ফেলেন। ফলে দিনের বেলায় ঐ রাস্তা দেখতে খারাপ লাগে পুনরায় কার্পেটিং করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত রোদে কাজ করার কারণে বিটুমীনও বেশি দিতে হয়েছে ।
সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, কাজের গুনগত মান বিগত সময়ে চেয়ে অনেক ভালো, বিগত সময়ে মেরামতের কাজ কম হলেও এখন সব উপজেলায় সমানভাবে কাজ চলমান রয়েছে। নতুন এবং মেরামতের কাজ যেগুলো হচ্ছে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এলজিইডির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন কাজ হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সুবর্ণচর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহজালাল বলেন, সরকারের জিওবি মেইনটেনেন্স প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি সুবর্ণচর উপজেলা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে চলছে এইসব নির্মাণকাজ। এলজিইডির সার্বিক তত্বাবধানে রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট মেরামত ও উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় দরপত্র আহবানসহ চলতি অর্থবছরে আরো ২৫ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।



Post Comment