বোনটার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, মানতে পারছিলাম না
ছোট বোনের বয়স ১৩ বছর। সে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। তার বিয়ের আয়োজন চলছিল, তার বয়স কম হওয়ায় ছেলে পক্ষ ও আমার পরিবার সিন্ধান্ত নিয়েছে কোর্ট এর মাধ্যমে বিবাহ দিবে, এই বাল্যবিবাহ ঠেকাতে ভাই মোঃ মাসুদ (২১), বাধ্য হয়ে ইউএনও এর কাছে গিয়ে গত সোমবার বাল্যবিবাহের আয়োজন বন্ধ করে। সুবর্ণ উপজেলায়, ০১নং চরজব্বর ইউনিয়নে, ০৮নং ওয়ার্ড, উত্তর বাগ্যা, গ্রামের তরুণ মোঃ মাসুদ (২১),
প্রশ্ন: ইউএনও এর কাছে যেতে হলো কেন?
মোঃ মাসুদ : বাধ্য হয়ে। আমার বোনটা একেবারেই ছোট। এত কম বয়সে বিয়ে হলে বোনটার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, এটা মানতে পারছিলাম না।
প্রশ্ন: এই ধারণা আপনার কেন হলো?
মোঃ মাসুদ : আশপাশের বাড়ির চার-পাঁচটি মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল। তাদের জীবনে আনন্দ বলে আর কিছু নেই।
প্রশ্ন: আপনার পরিবারের সবাই কি বিয়ের পক্ষে ছিলেন?
মোঃ মাসুদ : বিয়েতে আমি ও আমার বোন বাদে, পরিবারের সকলে মত আছে।
প্রশ্ন: আপনার বোনের বয়স ১৩ বছর। যাঁর সঙ্গে বিয়ের কথা হচ্ছিল তার নাম, ঠিকানা ও তাঁর বয়স কত?
মোঃ মাসুদ :নুর উদ্দিন (৫০), পিতা ঃ আবদুর রহমান,
মোঃ ফরিদ (৩০), পিতা ঃ মোঃ সিরাজ, মাতা ঃ বকুল, সাং- জিয়ার চর,
প্রশ্ন: ইউএনও ছাড়া কি কোনো উপায় ছিল না?
মোঃ মাসুদ : আমি দেখছিলাম, সব আয়োজন চলছে। কিন্তু আমাকে কেউ কিছুই বলছেন না। আমি কাউকে পাশে পাচ্ছিলাম না। বাধ্য হয়ে ইউএনও এর কাছে গেছি।
প্রশ্ন: বোনকে নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
মোঃ মাসুদ : বোনটি যত দূর ইচ্ছে সে লেখা পড়া করবে, আমি তাকে মানুষের মত মানুষ করবা।
প্রশ্ন: আপনার পেশা কী?
মোঃ মাসুদ : আমি একজন গাড়ী চালক।
প্রশ্ন: আপনার বাবা কী করেন?
মোঃ মাসুদ : তিনিও কৃষি কাজ করেন। আমরা গ্রামের গৃহস্থ পরিবার। মোটামুটি চলে যায়।
প্রশ্ন: আপনি পড়াশোনা কোন পর্যন্ত করেছেন?
মোঃ মাসুদ :অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত।
প্রশ্ন: বাল্যবিবাহ তো একটা বড় সমস্যা…।
মোঃ মাসুদ : কেউ যেন বাল্যবিবাহ না দেন। এটা যেমন মেয়েদের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি বেআইনি।



Post Comment