উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: : ভোট না দিলে উন্নয়ন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা-নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী

সুবর্ণচর(নোয়াখালী)প্রতিনিধি :


উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী একমাত্র পুত্র আতাহার ইশরাক সাবাব চৌধুরীকে ভোট না দিলে উন্নয়ন বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে একটি পথসভায় বক্তৃতাদানকালে তিনি ওই ঘোষণা দেন।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিউলী একরাম বাজারে দেওয়া ৪০ সেকেন্ডের একটি বক্তৃতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওই বক্তব্যের ভিডিও অংশে উল্লেখ করেন, ‘যে এলাকা থেকে ভোট কম দেবেন, সে এলাকায় আমি কোন উন্নয়নে হাত দিব না। সরাসরি কথা । গিভ অ্যান্ড টেক। আমাকে দিবেন, আমি আপনাদের দিব। আমারে এমপি বানাইছেন, আমি তো বলছি- পাঁচ বছর ক্ষমতায় আছি, এখন আমার মন মতো উপজেলা চেয়ারম্যান যদি বানান, আমার মিলেডম্যান (মাঝের ব্যক্তি) আমি আপনাদের উপহার দিয়ে গেলাম। আপনাদের…আমি আজ এখানে এসে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। পরে এখানের যে কোন একটি দোকানে বসে আপনাদের সঙ্গে সুখ-দু:খের কথা বলব, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।’
তাঁর ওই বক্তব্য স্থানীয়দের অনেকেই মুঠোফোনে ধারণ করেন। সংসদ সদস্যের এমন ঘোষণা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেছেন।
সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন সংসদ সদস্য একরামুলের ছেলে আতাহার ইশরাক ওরফে সাবাব চৌধুরী। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টানা তিন বারের উপজেলা চেয়ারম্যান এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী (সেলিম)।
খায়রুল আনমের সঙ্গে দলীয় বিরোধের জের ধরেই সংসদ সদস্য একরামুল তাঁর ছেলেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করিয়েছেন বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন। সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর এমন বক্তব্য নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন তাঁর ছেলের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী।
এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন , নির্বাচনে ভোটারেরা যে প্রার্থীকে পছন্দ করবেন তাঁকে ভোট দিবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁর (একরামুল করিম চৌধুরী) মতো একজন ব্যক্তি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভোটারদের এলাকায় উন্নয়ন না করার হুমকি-ধমকি দেওয়া মোটেই সমীচিন নয়। শুধু উন্নয়ন না করার হুমকিই নয়, সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে ভোটারদের আরও নানা হুমকি দিচ্ছেন। তিনি এসব হুমকির বক্তব্যের ভিডিওসহ নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
ভোট না দিলে উন্নয়ন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংসদ সদস্য মোহাম্মমদ একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘ভোটারদের উন্নয়ন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি কোন বক্তব্য দেননি। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের চল্লিশ সেকেন্ড বা ১ মিনিট শুনে তো মন্তব্য করা যায় না মন্তব্য করতে হবে পুরো বক্তব্য শুনে। কোন অংশকে কাটাছেঁড়া করে কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা প্রচার করছে।’

সংসদ সদস্য নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার বিষয়ে জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলাম বলেন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পার হলেই কাউকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে গন্য করা হয়। তার আগে সংসদ সদস্য তাঁর পরিবারের সদস্য হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। তবে সুবর্ণচরে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর সংসদ সদস্যকে ছেলের পক্ষে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন জয়, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি বেলাল হোসেন, যুবলীগ কর্মী নুর মাওলা,সবুজ, আফসার উদ্দিন মেম্বার প্রমূখ ।

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ