মাইজদীতে রাস্তায় ধূলো উড়ছে, জনজীবনে ভোগান্তি

নোয়াখালী প্রতিনিধি


নোয়াখালীর সোনাপুর-চৌরাস্তা সড়ক ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকায় সড়কে খানাখন্দের তৈরী হয়ে ধুলায়-দূষণে জনজীবনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বিকল হচ্ছে যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ, ঘটছে দূর্ঘটনা। ১৩.৩৮ কিলোমিটার দৈঘ্য সড়কের সোনাপুর-মাইজদী বাজার ৭ কিলোমিটার পার হতে বড়জোর ২০ মিনিট সময় লাগার কথা থাকলেও এখন ১ ঘন্টা সময়েও পার হতে কষ্ট হচ্ছে। সড়কের কাজে ধীরগতি ও প্রয়োজনীয় পানি না ছিটানোর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন সোনাপুর-চৌরাস্তা সড়কের উত্তর সোনাপুর, দত্তেরহাট, মাইজদী ও মাইজদী বাজার অংশ ঘুরে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা। ফোরলেনের জন্য প্রশস্তকরণ কাজ চলমান থাকায় সড়কের পাশে মাটি খুড়ে বড় বড় বক্স (গর্ত) করা হয়েছে। কোথাও বক্স বালি দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে। সড়কের ওপর এখনো বিদ্যুতের খুটি রয়ে গেছে। সরানো হয়নি গ্যাস লাইন। মূল সড়কের পিচ ঢালাই-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এক রাস্তার নোয়াখালী শহরে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় একই সময়ে একই সড়ক দিয়ে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এতে বেড়েছে ধুলোবালির পরিমাণ। প্রতিদিনই ধুলার কারণে দূষণ ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বায়ূমন্ডলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে হুমকির মধ্যে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। এতে যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে সড়কের পাশের ব্যবসায়ীদের।

সম্প্রতি বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ূমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) দেশের ৬৪ জেলার বায়ূদূষণ সমীক্ষা ২০২১ এ গাজীপুরে সর্বোচ্চ বায়ূদূষণ হচ্ছে বলে জানায়। ওই তালিকায় দূষণের দিক দিয়ে ৫ম স্থানে ছিল নোয়াখালী। জেলার বিভিন্ন সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলমান থাকায় এবং কাজের সময় সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় পানি না ছিটানোয় বায়ূমন্ডলে অধিক দূষণ দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাপসের সমীক্ষা প্রতিবেদনে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বায়ূত অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার দৈনিক আদর্শ মান ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। কিন্তু নোয়াখালীর বায়ূতে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা প্রতি ঘনমিটারে ২০৪ দশমিক শূন্য ১ মাইক্রোগ্রাম যা আদর্শ মানের তিনগুণেরও বেশি।

সোনাপুর-চৌরাস্তা পর্যন্ত ১৩.৩৮ কিলোমিটার সড়ক অংশের ৩টি প্যাকেজের মধ্যে ২ ও ৩ নাম্বার প্যাকেজের প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ এখনও বাকি আছে। ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড ও ইনফ্রাটেক নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। সড়কের কাজে ধীরগতি ও প্রয়োজনীয় পানি না ছিটানোর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রত্যাশী সংস্থা হিসেবে সড়ক বিভাগ বিদ্যুৎ ও বাখরাবাদ গ্যাস বিভাগের সাথে সমন্বয় করছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সোনাপুর-চৌরাস্তা সড়কে চলাচলকারী নাসির উদ্দিন শাহ নয়ন, নার্গিস আক্তার, আবু বক্কর ছিদ্দিক সুজন, ফজলুল হক রুবেল অভিযোগ করে বলেন, অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ নানা গুরুতপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জেলা শহর মাইজদীতে অবস্থিত। যার কারণে প্রতিনিয়তই বিকল্প সড়ক না থাকায় সোনাপুর-চৌরাস্তা সড়ক দিয়ে জেলা শহর মাইজদীতে যাতায়াত করতে হয়। এই সড়কটি ফোরলেনে উন্নীতকরণের কাজ দীর্ঘদিন আগে শুরু হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আরো দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু ধীরগতির কারণে এখনো কাজ শেষ হয়নি। শহর অংশে দোকানপাট ভেঙ্গে সড়কের ওপর ভাঙ্গা ইট-বালির স্তুপ, গর্ত খোড়া ও সড়কে খানাখন্দ তৈরী হয়ে অতিমাত্রায় ধুলোবালির সৃষ্টি হওয়ায় আমরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। ধুলায়-দূষণে দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ। সোনাপুর থেকে জেলা শহরে যেতে যেখানে আগে ১২ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগত, এখন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। আবার ভাঙ্গা সড়কের অযুহাতে গণ-পরিবহনে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া। যার কারণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ও অর্থ নষ্টসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। ফোরলেন কাজের শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল-বিকাল সড়কে পানি ছিঁটানো, খানাখন্দ ভরাট করে চলাচল উপযোগী করে তোলার দাবি জানান ব্যবসায়ী, পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা।

ওই সড়কের সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আলাউদ্দিন, হোরন মিয়া, বাসচালক মাইনুদ্দিন, ব্যাটারী চালিত রিকশা চালক মো. ইব্রাহিম বলেন, সড়কের যে অবস্থা, একবার সোনাপুর থেকে মাইজদী কিংবা মাইজদী বাজার গেলে দ্বিতীয়বার এই সড়ক দিয়ে আর যাতায়াত করতে মন চায়না। ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, বিকল হচ্ছে যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ। একটু বেশি ভাড়া আদায় করলেও লাভের চেয়ে দন্ড বেশি হচ্ছে।

সড়কের পাশের ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন, সোহাগ আহসান, আপেল মাহমুদ বলেন, প্রতিনিয়তই অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে ব্যবসায়ে মারাক্তক ক্

Post Comment

You May Have Missed

error: অনুমতি ছাড়া লিখা ও ছবি নকল করা নিষেধ