মেঘনায় নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা ভূমিহীন, বেড়িবাঁধে ঝুকিপূর্ণ বসবাস
সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্কের উপকূলবর্তী মেঘনা নদীর তীরে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছে কয়েক হাজার ভূমিহীন পরিবার। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব ভূমিহীন পরিবারগুলো অনেকটা জীবনের ঝুকি নিয়েই বসবাস করছে নদীর পাড়ে। যে কোন সময় ঝড়, জ¦লোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানীর আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্কের উপকূলবর্তী বসবাস করছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নদী ভাঙ্গা বেশির ভাগই জেলে ও কৃষক। যুগে যুগে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এরা বর্তমানে নিঃস্ব ও অসহায়। নদী ভাঙ্গনে একমাত্র সম্বল বসত ঘর হারিয়ে তারা এখন ঠাঁই নিয়েছে মেঘনা নদীর পাড়ের চেয়ারম্যান ঘাট, হরণি, বয়ারচর, শান্তিপুর, জনতা বাজার ঘাট, চতলা ও সুইস গেইট এলাকায়। নদী পাড়ে খুপড়ি ঘর বানিয়ে তারা কোন মতে বসবাস করছে। এতে তাদের জীবন রয়েছে মারাত্মক ঝুকিকে। প্রায় সময় ঘুর্নিঝড়ের কবলে পড়ে মানবেতর জীবন—যাপন করে এসব এলাকার নদী ভাঙ্গা মানুষ। যে কোনো সময় ঝড়, জ্বলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানীর আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
বয়ারচর চতলারঘাট পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম াজানান, নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বর্তমানে এই এলাকায় হাজার হাজার পরিবার বেড়ি বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে বেড়ি বাঁধটিও ঝুঁকিপূর্ন। যে কোন সময় বেঁড়িবাধটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থানীয়দের আবেদন নিবেদনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিডিএসপি বেঁড়িবাধ রক্ষায় সামান্য জি.আই ব্যাগ ফেললেও তাতে ভাঙ্গন রোধ হচ্ছেনা। নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এখানকার মানুষ আরো নিঃস্ব হয়ে যাবে। হাতিয়ার হরনি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কমিটির প্রশাসক মুশফিকুর রহমান জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ভাবে ব্লক বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। না হয় দিন দিন ভূমিহীনের সংখ্যা বাড়বে। যারা বর্তমানে বেঁড়ি বাঁধের উপর বসবাস করছে তারা আর কোথাও যাওয়ার পথ খুঁজে পাবেনা।
ভ্রমন পিয়াসু সুবর্ণচরের পূর্ব চরবাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোকেশনাল শাখার বিভাগীয় প্রধান মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, হাতিয়ার হরণি ও চানন্দী ইউনিয়নের চরনঙ্গলিয়া শান্তিপুর ঘাট সংলগ্ন যে বেড়িবাঁধটি আছে তা ভেঁঙ্গে বিস্তৃত এলাকায় পানি ঢুকে রবিশস্য ও বসত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষ বেড়ির পাশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। তিনি এসব এলাকায় ব্লক পেলে নদীভাঙ্গন রোধে সরকারের সু—দৃষ্টি কামনা করেন।
নদী পড়ে ঝুকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারী ভূমিহীনদের প্রধানমন্ত্রীর ’জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের আওতায় পূনর্বাসনের কথা জানিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম বলেন, ইতিমধ্যে আমরা সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুর চরক্লার্ক ও হাতিয়ায় নদী ভাঙ্গনের কারণে ভূমিহীনদের তালিকা তৈরী করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি। তালিকা তৈরী হলে পর্যায়ক্রমে আমরা ভূমিহীনদের পূর্নবাসন করবো। নোয়াখালী—৬ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা আলী বলেন, নদী ভাঙ্গন এখানকার সব চেয়ে বড় সমস্যা। নদী ভাঙ্গার কারণে অনেকে সহায় সম্ভল হারিয়ে এখন প্রায় দিশেহারা ভূমিহীন। তাদের মাথা গোজার ঠাই নেই। আমি জন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নদী ভাঙ্গন রোধকে গুরুত্ব দিয়ে আমার প্রথম কাজ শুরু করি। নদী ভাঙ্গন রোধে ব্লক বাঁধ নির্মানের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে রয়েছে। এটি পাশ হলে দ্রুত আমরা নদী ভাঙ্গন রোধে ব্লক বাঁধ নির্মাণ শুরু করবো। এর পর ভূমিহীনদের পূর্নবাসনের কাজে আমরা হাত দেব।



Post Comment