সরকারি হাসপাতালেই ফি নিয়ে রোগী দেখার অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি :
অফিস চলাকালীন সময়েই সরকারি হাসপাতালে বসে ফি নিয়ে রোগী দেখেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শেখ মাহমুদ। এতে বাধা দেওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরনেরও অভিযোগ ওঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেখ মাহমুদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজের চেম্বারে বসে ফিস নিয়ে রোগী দেখতেন। বিষয়টি নজরে এলে গত শনিবার তাঁকে বাধা দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৌমেন সাহা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর দিকে তেড়ে যান শেখ মাহমুদ। পরে এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গতকাল সোমবার দুই সদস্যের একটি টিম গঠন করেছেন। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তাঁদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ডা.মাসুম ইফতেখার বলেন, হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সৌমেন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম ও বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সালেহ আহমেদ সোহেলকে দিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিকিৎসক সৌমেন সাহা বলেন, হাসপাতালে বসে অর্থের বিনিময়ে রোগী দেখার অভিযোগ ছিল শেখ মাহমুদের বিরুদ্ধে। একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে, কোনো লাভ হয়নি। ঘটনার দিন হঠাৎ আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (শেখ মাহমুদ) চেম্বারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় চেম্বারে বসে ব্যক্তিগত রোগী দেখার বিষয়ে বাধা দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক হাতিয়ার ওচখালী এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এটা নতুন কিছু নয়। তিনি এখানে যোগদানের পর থেকেই সরকারি হাসপাতালের নিজ অফিস রুমে বসে ফি নিয়ে রোগী দেখে আসছেন।
এবিষয়ে জানতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শেখ মাহমুদের মুঠোফোনে কথা বললে তিরি এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, সিএস অফিসের লোকজন অভিযোগের শুনানী করেছে। তাদের কাছ থেকে জেনে নিয়েন।
তদন্ত কমিটির প্রধান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বুধবার (১৭ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। যথাসময়ে সিভিল সার্জন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।



Post Comment