সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় মামলা
নোয়াখালী প্রতিনিধি::
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের গোলাগুলিতে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত মুজাক্কিরের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে কাদের মির্জার অব্যাহত মিথ্যাচারের প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল। মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় বাজারসংলগ্ন তাঁর বাড়ি থেকে বের হয়ে চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে গেলে সেখানে কাদের মির্জার অনুসারীরা সাথে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ দুই পক্ষকে দুই দিকে ধাওয়া করে এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর শতাধিক অনুসারী মোটরসাইকেল ও গাড়িযোগে চাপরাশিরহাট এলাকায় যান। একপর্যায়ে কাদের মির্জার সমর্থকেরা বাজারসংলগ্ন মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও গুলি চালান। এ সময় কর্তব্য পালনকালে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে তাঁর মুখের নিচের অংশ এবং গলা ও বুক ঝাঁজরা হয়ে যায়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন আরও তিনজন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বুরহানসহ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় নেওয়া হয় নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। এরপর রাতেই অবস্থার অবনতি হলে বুরহানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধিন অবস্থায় রবিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বুরহানের মৃত্যু হয়। মুজাক্কির অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারের নিজস্ব প্রতিবেদক ছিলেন।



Post Comment