সুবর্ণচরে অটোরিকশা চালক হত্যার ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার
আবদুল জব্বার, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জে অটোরিকশা চালক মো. রফিকুল ইসলামকে (৫৫) ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত কোমল পানীয় খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনার চার দিন পর পুলিশ ও র্যাব-১১ সিপিসি-৩ যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে। এসময় ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও হত্যায় ব্যবহৃত গামছাও উদ্ধার করা হয়।
রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীম মিয়া গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার রাতে কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর গ্রাম ও সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের চর মহিউদ্দিন গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— সুবর্ণচর উপজেলার চর মহিউদ্দিন গ্রামের মনির হোসেন (৩৭) ও একই গ্রামের মো. সেলিমের ছেলে লিটন (২৬)।
পুলিশ জানায়, নিহত রফিকুল ইসলামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায় হলেও তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়নের দ্বীন বেপারী বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনেছিলেন।
গত ২৫ আগস্ট দুপুরে খাবার শেষে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বের হন, তবে রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন সকালে সুবর্ণচরের নুর ইসলাম মিয়ার বাড়ির পাশে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। নিহতের গলায় দড়ির দাগসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
ওসি শাহীম মিয়া জানান, গ্রেফতার মনির হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ছিল এবং তারা একসঙ্গে আড্ডা দিতেন। ঘটনার দিন রাতে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করানো হয়। পরে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মনিরকে সহযোগিতা করেন লিটন।
এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে রিপন নামের একজনকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



Post Comment