সুবর্ণচরে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রি করার দায়ে জরিমানা
সুবর্ণচর(নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে তিন মাংস বিক্রেতাকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান ওই জরিমানা করেন। আদালত মাংস পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন।
চরজব্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, উপজেলার চরওয়াপদার থানার হাট বাজারে তিন মাংস বিক্রেতা অসুস্থ গরু জবাই করে প্রতি কেজি মাংস আড়াই শ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন। এলাকাবাসী এ বিষয়ে অভিযোগ করলে ইউএনও চৈতী সর্ববিদ্যার নিদের্শে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক তিনজনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
মাংস বিক্রেতারা(কসাই) হলেন সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের চর বৈশাখী থানারর ছেলে রিয়াজ উদ্দিন(২৭),এবং গরুর মালিক মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে হোসেন তালুকদার ।
এ বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, কতিপয় মাংস ব্যবসায়ী প্রায় খাওয়ার অনুপযোগী অসুস্থ পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। এসব মাংস বিক্রির জন্য অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিংবা বাসাবাড়ির ফ্রিজে রাখা হয়।
সেগুলো হাটে আবার বিক্রি করা হয়। কিন্তু স্থানীয় সরকারের ইউনিটগুলোর নীরব ভূমিকার কারণে ক্রমশই বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ওইসব ভূক্তভোগীরা।
চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মোহাম্মদ সুলতান আজহার উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর অসুস্থ গরুর মাংসগুলো জব্দ করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুর রহমান বলেন, রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির সত্যতা পেয়ে কসাইকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। মাংসগুলো পুড়িয়ে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। কেউ যেন খাওয়ার অনুপযোগী মাংস বিক্রয় না করে, সে বিষয়ে সব ব্যবসায়ীকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী ফ্রিজে রাখা মাংস যাতে বিক্রি করতে না পারে সেদিকেও তদারকির জন্য বাজার পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।



Post Comment