সুবর্ণচরে কাঠের ভাঙা সেতুতে মানুষের চরম দূর্ভোগ
মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল::
খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে ছিলো প্রায় দুইশ ফুট দীর্ঘ লম্বা কাঠ ও পাটাতনের সেতু। ২০০১ সালে চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্পে অধীনে আট লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সেতুটি। মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি অটোরিকশা নিয়মিত চলাচল করত সেতুটির উপর দিয়ে। গত ৭-৮ বৎসর যাবত ভেঙে পড়ে আছে। বর্ষাকালে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হলে সময় ও জীবন জীবিকার তাগিদে শুষ্ক মৌসুমে বাঁশ ও কাঠ বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে চলা করে। সম্প্রতি সেতুটি দিয়ে পার হতে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির একটি শিক্ষার্থী মারা যান।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নের পাংকার বাজার জালাল সারেং মসজিদ সমাজ এলাকায় ভুলুয়া নদীর শাখা খালের ওপর এই কাঠের সেতু দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। চরজব্বার ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বার,উত্তর ব্যাগ্যা, সমিতির বাজার, চরজুবিলীর মধ্য ব্যাগ্যা, একরাম নগরসহ পাঁচটি গ্রাম এই সেতুটির কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। কাঠের সেতুর স্থানে পাকা সেতু তৈরি হলে একরামনগর- পাংকার বাজার সড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতো এলাকাগুলো।
স্থানীয় লোকজন জানান, উপজেলার চরজব্বার-চরজুবিলী ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পাংকার বাজার হয়ে একরামনগর-আটকপালিয়া সড়ক দিয়ে জেলা সদর ও ঢাকা-চট্টগ্রামে যাতায়াত করে। কাঠের সেতুর কারণে ওই সড়ক থেকে ভারী যানবাহন নিয়ে ওই এলাকাগুলোতে যাওয়া যায় না। এ ছাড়া বর্ষাকালে সেতুটি পানির তোড়ে ভেঙে যায়। আবার কখনো ডুবেও যায়। তখন শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় যাওয়াও সম্ভব হয় না।
উত্তর ব্যাগ্যার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, গত দুই দশক আগে লোকজনের চাঁদা, মুষ্টিচাল ও ধান সংগ্রহ করে প্রায় লাখ টাকা ব্যয়ে কাঠের এই সেতু নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয়ভাবে দেখা শুনা করলেও জনপ্রতিনিধি সঙ্গে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মনোমালিন্যে কারণে এখন কেউই তদারকি করে না।
পাংকার বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘১৫-২০ বছর ধরে আমরা সেতুর জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো তা হয়নি। ভবিষ্যতে হবে বলে মনে করি না।’
মধ্য ব্যাগ্যার কৃষক বজলুর রহমান বলেন, ভোট এলে সব দলের নেতাই প্রতিশ্রুতি দেন, বাঁশের সাঁকো আর থাকবে না। কষ্ট করতে হবে না। খালের ওপর কালভার্ট হবে। কিন্তু দল পাল্টায়, বাঁশের সাঁকো আর ব্রিজ হয় না। ৫০ হাজার মানুষের কষ্ট-দুঃখও ঘোচে না।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মঞ্জুর আলম বলেন, একে একে সকল দপ্তরে ধরনা দিয়েও সেতুটি হলোনা। সেতু আর প্রশস্ত সড়ক না থাকায় গ্রামটিতে কোনো রিকশা বা রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে পারে না। এ কারণে উৎপাদিত পণ্যের পরিবহন আর রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন এখানকার বাসিন্দারা।
চরজুবিলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল্ল্যাহ খসরু বলেন, সেতু না থাকায় ওই সড়কের সঙ্গে মানুষের সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। এ বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সুবর্ণচর উপজেলা প্রকৌশলী মো.শাহজালাল বলেন, উপজেলা , ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন ও কাগজপত্র প্রেরণ করেছি,অনুমোদন হয়ে গেলে সেতুটি নির্মাণ করা হবে।।



Post Comment